ঢাকা: সব ক্ষেত্রে তথা আইন আদালত থেকে শুরু করে প্রশাসনে জামাতিদের নিয়োগ দেয়া হয়। ইউনূস গং এবং অঘোষিত সরকারে যারা ছিলো জামাত এনসিপি তারাই ধরে ধরে এই কাজগুলো করে।

নতুন সরকার গঠনের পর একের পর জামাতি ছাঁটাই শুরু হয়েছে। কিক আউট হচ্ছে একে একে। কেউ পলায়নের রাস্তা পরিষ্কার করছে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

এরপর ঢালাওভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। যাদের বড় অংশ এখনো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও দপ্তরপ্রধান হিসেবে কর্মরত।

তবে এদের ছাঁটাই করা হবে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পর চুক্তিভিত্তিক অনেক কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল হবে বলে জানা গেছে।

আবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তার মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসায় অনেকে আবার নিজেই পদ থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।

দুর্নীতি করে, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে দেশ ছাড়ছে এরা।

১৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন হয়। সে সময় শেখ আব্দুর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের কারণে তা গৃহীত হয়নি।

একই দিন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। একদিন পর তিনিও চাকরি থেকে পদত্যাগের আবেদন করেন।

আবার ওইদিনই মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। শেখ আব্দুর রশিদ ও সিরাজ উদ্দিন মিয়া দুজনই অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত ছিলেন।

হায়ার করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানকে।

এই জামাতিও শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

এদিকে, দেশের আরও তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে সাময়িক নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল করে তাদের জায়গায় নিয়মিত কর্মকর্তাদের দেয়া হবে।

অন্তর্বর্তী আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়াদের তালিকা বিশাল বড়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, পরিকল্পনা কমিশনের দুই সদস্য (সিনিয়র সচিব) মো. মোখলেস উর রহমান ও এমএ আকমল হোসেন আজাদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মকসুমুল হাকিম চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. নেয়ামত উল্লাহ ভূইয়া, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের।

আছেন ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ, পর্তুগালের লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত (সচিব) মো. মাহফুজুল হক, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান এজেএম সালাউদ্দিন নাগরী, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরিফা খান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) এসএম মঈন উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *