ঢাকা: হাম বা মিজেলস ভাইরাসজনিত একটা রোগ, যা অত্যন্ত সংক্রামক। শিশুরা মারা যাচ্ছে, কিন্তু এতে দেশের কারো মাথাব্যথা নেই।

হাম প্রতিরোধের একমাত্র উপায় ছিলো সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি।

কিন্তু করোনা পরবর্তী বিগত কয়েক বছর যাবৎ গণ্ডমূর্খ ওয়াজ ব্যবসায়ী আর অশিক্ষিত টিকটকাররা এই টিকাদানের বিরুদ্ধে নানান অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে টিকা নিতে অনাগ্রহী করেছে।

তাদের মতে এসব টিকা না-কি আমেরিকার ষড়যন্ত্র। টিকা নিলে ঈমান থাকবে না। সব হয়েছে ঈমানদার মানুষ। অভিভাবকরা গর্ব করে বলেন, শিশুকে টিকা দেবেন না।

এখন ভুক্তভোগী হচ্ছে বাচ্চাগুলো।

শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ছে এবং মহামারির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমাদের দেশে এমনিতেই আইসিইউ’র সংখ্যা কম।

তাছাড়া আইসিইউ দিলেও করা হলেও হামে আক্রান্ত সবাইকে বাঁচানো সম্ভব না।

বাংলাদেশে হঠাৎ করেই হাম বা মিজেলস আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে।

এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

ওয়াজ মাহফিল বড় আকারে টিকা বিরোধী ক্যাম্পেইনের ফলাফল হামের ছড়ানো।

এর দায় কার? টিকা নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে?

যারা এসবের জন্য দায়ী, সেই জামাতি ওয়াজ ব্যবসায়ীদের কেউ কিছু বলবে না। বললে তো আবার ঈমান থাকবে না! যে বলবে, তার বিরুদ্ধে হতে পারে ধর্মে আঘাতের মামলা ঠুকে দেবে।

রাজশাহীর অবস্থা খুব খারাপ। হাম ছড়াচ্ছে। শিশু মরছে। কেউ আইসিইউর অপেক্ষায়, কেউ সাধারণ ওয়ার্ডে সংক্রমণের ভিড়ে, কেউ টিকা পাওয়ার আগেই ভাইরাসের মুখে পড়েছে।

এই সময় একটি আধুনিক রাষ্ট্রের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল হাসপাতাল, টিকা, আইসোলেশন, জরুরি চিকিৎসা, জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা।

এখানে শিশুর শরীর খারাপের খবর কেউ রাখে না, এখানে বেশি সম্মান পায় মাইকে উচ্চারিত ওয়াজ।

ভ্যাকসিনের চেয়ে তসবির দানা বেশি নিরাপদ ধরা হয়।

ধর্মব্যবসায়ীদের কী? তারা অন্ধত্ব ঢুকিয়ে শিশুদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে । তারা এতে বিব্রত নন। তারা কোনোদিনই ছিলেন না।

শিশু মারা গেলে তারা একটা কথা বলেই শেষ করেন, দেখেছেন কোনো জামাত, ধর্ম ব্যবসায়ীকে ভেন্টিলেটর কিনে দিতে?

তারা কোনোদিনও সংক্রামক রোগের আলাদা ওয়ার্ড বানান না, টিকাবঞ্চিত বাচ্চাদের তালিকা করেন না। তারা আরও উঁচু কাজ করেন। তারা বলেন, “আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে।”

এই যে ধর্মের সংস্কৃতি তা ধর্ম ব্যবসায়ীদের জবাবদিহিতা থেকে বাঁচায় ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *