রাজশাহী: সারা রাজশাহীতে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। এর বলি হচ্ছে শিশুগুলো। ঘরে ঘরে শিশু আক্রান্ত।

আসলে হাম নয় শিশুরা মরছে অবহেলায়!
একজন মা তার নবজাতককে কোলে নিয়ে হাসপাতালে ছুটছে। কিন্তু হাসপাতালে ভেন্টিলেটর নেই, আইসিইউ নেই।

রাজশাহী মেডিকেলের চিত্র এটা। গোটা বাংলাদেশে যারা টিকা নেয়নি তাদের মধ্যে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার আশংকা।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে ক্ষোভে বলেছেন— “রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পরিচালকের ফাঁসি হওয়া উচিত!”

রাজশাহীতে আইসিউ না পেয়ে নিষ্পাপ বাচ্চাগুলো মারা যাচ্ছে । স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কি করুণ অবস্থা বাংলাদেশের।

বাংলাদেশে জন্মের পরে শতশত বাচ্চা মারা যায় এমন উদাসীনতার জন্য।

আওয়ামী লীগ আমলের স্বাস্থ্য খাত যথেষ্ট নজরদারি, জবাবদিহিতার মধ্যে ছিল। হাসপাতালের পরিচালকদের এমন উদাসীনতা আগে ছিল না। এখন পুরো ভঙ্গুর অবস্থা।

হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) প্রায় ৬২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা না থাকায় এত প্রাণহানি ঘটেছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ৯ জন আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো যায়নি বলে জানা গিয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এসব রোগের জটিলতা বাড়লে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। কিন্তু রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য আলাদা কোনো আইসিইউ নেই।

সাধারণ আইসিইউর ১২টি শয্যা শিশুদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না।

মেঝেতেও চিকিৎসা করা হচ্ছে। কী করুণ অবস্থা!

চিকিৎসকেরা বলছেন, নিউমোনিয়ার পাশাপাশি হাম মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তাঁদের দাবি, অভিভাবকেরা শিশুদের প্রাণঘাতী এই রোগের টিকার ডোজ শেষ করছেন না। ফলে হামে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *