ঢাকা: এই রাষ্ট্র ভুলেছে সালাম, রফিকদের আত্মত্যাগের কথা। মাতৃভাষা বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার সংগঠিত দাবি ও আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম গুলি চালানো হয়েছিল।
তাতে সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউর শহিদ হয়েছিলেন। বাঙালির হৃদয়ে গভীর বেদনায় ঐ দিনটি রক্তের অক্ষরে লেখা হয়ে যায়।
উর্দু হবে না, মাতৃভাষা হবে বাংলা। ভাষার জন্য আত্মবলিদান দিলেন তাঁরা।
বাংলা ভাষার জন্য শহিদদের আত্মদান আজ পরিণত হয়েছে জাতির জাগরণের প্রতীকে। ফেব্রুয়ারি তাই অঙ্গীকারের মাস, প্রত্যয়বদ্ধ হওয়ার মাস।
তবে এইসব এখন অতীত। পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের বুকে। তাই বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, গান সবকিছু এখন ধ্বংস। তার বদলে আপন হচ্ছে কাওয়ালি, উর্দু।
দেখা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসন সৈয়দপুর শহরে ভোট প্রার্থনায় বাংলার পাশাপাশি উর্দু ভাষায় মাইকিং করা হচ্ছে।
এতে প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনাসহ উর্দুতে গান ও গজল পরিবেশন করা হচ্ছে।
সৈয়দপুরে শহরে বসবাসকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ উর্দুভাষী (বিহারি) ভোটারদের আকৃষ্ট করতেই নাকি এখানে উর্দু ভাষায় মাইকিং করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
প্রার্থীরা বলছেন, মূলত উর্দুভাষীদের কাছে ভোট প্রার্থনা করতেই উর্দুতে মাইকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এই ঘটনা কতটা গ্রহণযোগ্য? পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে এ দেশের রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল, কিন্তু বাঙালি জাতি সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষায় প্রতিষ্ঠিত করেছি। অথচ আজ সেই বাংলা রেখে উর্দু ভাষায় মাইকিং হচ্ছে?
জনগণ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায়! উর্দুতে ধানের শীষের মাইকিং হচ্ছে ।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও যারা বাংলা ভাষা শিখল না, সেই সকল আবাঙালিদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া উচিত। বলছে দেশবাসী।
তবে এবারই প্রথম নয়, ভোট এলেই কদর বাড়ে তাদের। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা জানান, মূলত বয়স্কদের ভোট চাইতেই উর্দুতে মাইকিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
