ঢাকা: জঙ্গী ইউনূসের মতো মিথ্যা বলা বা মুনাফেকী আচরণ সাধারণত জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কারণ এরা একাত্তরে গণহত্যার সাথে সম্পৃক্ত ছিল এবং প্রায় এক যুগ পর অন্য নামে রাজনীতি শুরু করে।

আবার নিজেদের নেতাকর্মীদের দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে সশস্ত্র জঙ্গী দল গঠন করে দেশবিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে সেসব দলকে পরিচালনা করে জামায়াত-শিবির। কথায় কথায় রং বদলায় জামাত। ধর্ম ব্যবসায়ীরা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার নামে দেশে জঙ্গীবাদ ছড়ায়, ধর্ষণ করে…!

ইউনূসের চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র মনে করেছিলেন অনেকে। আবার সাঙ্গোপাঙ্গোরা পা চেটে ছিলেন।

ক্ষমতা গ্রহণের পর সেপ্টেম্বরে আমেরিকা সফরে গিয়ে বিল ক্লিনটনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আনন্দের আতিশায্যে ইউনূস বলে বসেন যে, জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন হঠাৎ করে শুরু হয়নি, বরং খুব নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

এই ইউনূসের দ্বিচারিতার শেষ নেই।

সর্বশেষ আবার জানুয়ারির শেষদিকে ফিনান্সিয়াল টাইমসের গিডিয়ন র‍্যাচম্যানের সাথে একটি পডকাস্টে কথা বলার সময় ছাত্রনেতাদের সাথে তার যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছিলেন ইউনূস। এমনকি তাদের কাউকে নাকি তিনি চিনতেন না, এমনটাও বলেছেন।

ছাত্রদের সাথে পরিচয় থাকার কথা তিনি দৃঢ়কন্ঠে অস্বীকার করেছেন, যার একমাত্র কারণ হতে পারে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের জন্য আইনি পদক্ষেপ এড়ানো।

এছাড়া তিনি সরকার ও রাষ্ট্র পরিচলানা নিয়ে কিছু জানেন না বলে আরেকটি মিথ্যা দাবী করেন।

তা জানেন না যদি বসলেন কেন?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪-র ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।

সেই ৮ আগস্ট থেকে শুরু করে তাঁর মিথ্যাচার, ভারত বিরোধিতা চলেছে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

নিজের বিদায়ী ভাষণেও আরও একবার ভারতের সেভেন সিস্টার্স শব্দটি মুখে এনে বিতর্ক উস্কে দিলেন তিনি।

’শান্তির শকুন’ শেষ ভাষণেও মিথ্যাচার এবং প্রতারণা করে গেলেন। তাঁর বাটপারি শুরু হয়েছিল বাল্যকালে যা তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, অন্যের লেখা নিজের নামে চালিয়ে দিয়ে পত্রিকা চুরি করার মাধ্যমে।

হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং এই ১৮ মাসে জাতির সাথে প্রতারণা , দেশকে মৃত্যুর ভাগাড় বানানো, অর্থনীতি ধ্বংস এবং রাজাকারের পুনর্বাসন সব কিছুই করে গেছেন।

এবার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের, সরকারের দায়িত্ব ইউনূসের  শাস্তির ব্যবস্থা করা। ইউনূস যেন পালাতে না পারেন তার সহযোগীদের নিয়ে।

তাঁর কথায় উঠে আসে নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্সের নাম। তবে তিনি একবারও ভারতের নাম কিন্তু সরাসরি বলেননি।

মহম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমাদের বিস্তৃত সমুদ্র কোনও সীমানা নয়, বরং এটি বিশ্ব বাণিজ্যের একটি রাস্তা। নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্স সহ পুরো এলাকাতেও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সম্ভব। ইকোনোমিক জোন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে শুল্ক বিহীন বাজার এই অঞ্চলকে গ্লোবাল ম্যানুফাকচারিং হাবে পরিণত করতে পারে।’

বিশেষজ্ঞরা ইউনূসের কথাবার্তা ভালো চোখে দেখছেন না। তাঁদের মতে, ইউনূসের নিশ্চয়ই বিরাট অভিসন্ধি রয়েছে। তাই তিনি ইচ্ছে করেই সেভেন সিস্টার্সের নাম করছেন। বিচ্ছিন্নতায় উস্কানি দিতে চাইছেন ইউনূস।

ইউনূস কিন্তু ভীষণ নির্লজ্জ একজন ব্যক্তি। তা নাহলে সবসময় নির্লিপ্ত মুখে হাসি রাখতে পারতেন না এত অপকর্ম করেও।

ভারতের সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ইউনূসের মাথা ব্যথা অনেক।

আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, তিনি ২০২৫ সালের মার্চ এবং এপ্রিল নাগাদ তিনি চিন গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়েই ইউনূস দাবি করেন যে ভারতের উত্তর পূর্বের এই রাজ্যগুলি সমুদ্রের সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই চিন চাইলে নিজেদের ব্যবসা বাংলাদেশের মাধ্যমে করতে পারে।

উত্তর পূর্ব ভারত কিন্তু বরাবর সংবেদনশীল। চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্রের কথা কেউ ভোলেনি।

এবার দেড় বছর পর নতুন সরকার গঠন করতে চলেছেন তারেক। তাঁর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আপাতত মধুর। যদিও এই নিয়ে এখনই জোর দিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে জনগণের ভোটে তো নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান। তাই জনগণের কথা মাথায় রাখতে হবে। এবং ইউনূস যে দেশটাকে লুটে পুটে খেয়েছেন দেড়টা বছরে, ভারত বিরোধিতার জিকির তুলে, উস্কানি দিয়ে খেলা দেখিয়ে, দেশকে বাঁদর নাচিয়ে বিদায় নিচ্ছেন- তারেক রহমান সরকারের কি এত সহজে, কোনো শায়েস্তা ছাড়া তাঁকে ছেড়ে দেয়া উচিৎ হবে?

জনগণ কী বলে? জনগণ বলছে, আমরা ভরসা করেছি বিএনপির ওপর। আওয়ামী লীগ যেহেতু নেই মাঠে, জামাতকে ক্ষমতায় আনা যাবে না- তাই শেষ ভরসা বিএনপি। আওয়ামী লীগ সমর্থক, হিন্দুদের প্রায় ৫০% মোট বিএনপির বাক্সে গেছে।

তা এই জনগণ গুলো যারা এত কষ্ট স্বীকার করলো ইউনূস গদিতে বসার পর থেকে, পরিবারের লোকজন হারালো, সন্তান হারালো মায়েরা, তাদের চোখের পানির শোধ নেবেন তো তারেক রহমান?

জনগণ তো কিছু চায় না, শান্তি চায়! ইউনূসের অপকর্মের শাস্তি চায়। সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবশ্যই নজর দিতে হবে তারেকের।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *