ঢাকা: গত ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন, মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা, জমি দখল ইত্যাদি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
গত দেড় বছরে বাংলাদেশে প্রায় ২/৩ হাজারের বেশি মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফরিদপুর, লক্ষ্মীপুর, ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় হামলাগুলো ঘটেছে।
শুধু তো তাই নয়। সম্প্রতি আরো পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুদের পিটিয়ে, মেরে গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠী। অথচ সরকার নীরব।
আর কাঁহাতক?
৫ আগস্ট ২০২৪-এ ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্র শিবিরের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রায় ২০/৩০ হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচশতাধিক নারী ও তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এই সহিংসতার পেছনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে পরিষ্কারভাবে বললে, বাংলাদেশে ধর্মীয় ও সামাজিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের লড়াই আজকের নয়।
আজকে থেকে হিন্দুরা অত্যাচারিত নয় এই দেশে! যুগের পর যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, পরিকল্পিত ভূমি দখল এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া- এইসব বিষয় অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
হিন্দুরা শুধু ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত। সম্প্রতি রংপুরের পীরগঞ্জের ঘোষপুর গ্রামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণরত আইনজীবী চন্দন বর্মনের পরিবারের ওপর অমানবিক ভূমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে। রীতিমতো তাণ্ডব চালানো হয়।
চন্দন বর্মনের করুণ প্রশ্ন— “সংখ্যালঘু হওয়া কি আমাদের পাপ?”
নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন লেখেন:
“হিন্দু হওয়ার অপরাধে পীরগঞ্জের ধনেশ্বর বর্মনের জমি কেড়ে নিচ্ছে মুসলমানরা। কেউ হিন্দুদের পাশে নেই, গণমাধ্যম নেই, প্রশাসন নেই। সহৃদয় মানুষেরা পাশে থাকুন”।

জানা গেছে, সকাল প্রায় ৬:৩০ টা নাগাদ ১০০-১৫০ জন দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ হয়ে চন্দন বর্মনের পৈত্রিক জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে।
কোনোরকম আইনের তোয়াক্কা না করে, জোর করে তারা জমিতে চাষাবাদ শুরু করে দেয়।
চন্দন বলেন, শিক্ষিত যুবসমাজ যখন দেখে যে তাদের অর্জিত শিক্ষা বা পেশাগত পরিচয়ও তাদের পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, তখন দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা চিরতরে ভেঙে যেতে পারে।
এ তো গেলো একটা ঘটনা, এমন হাজারো আছে। যারা বিচার না পেয়ে কাঁদছে, বাড়িঘর হারিয়েছে।
