ঢাকা: দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ফাঁস করেছেন কীভাবে তাঁর সাথে অন্যায়গুলো করা হয়েছে। কীভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন ইউনূস!

ইউনুসের অবৈধ শাসনামলে বাংলাদেশের আদালতে যা ঘটেছে, তাকে কোনোভাবেই ‘আইনের শাসন’ বলা যায় না।

বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়ায় যে ধরনের নগ্ন হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ড. ইউনূস ও অ্যাডভোকেট তথা রাজাকারের আইনজীবী তাজুল ইসলাম গংরা বিচার বিভাগকে যেভাবে ব্যবহার করছেন, তা সরাসরি সংবিধানবিরোধী।

সাম্প্রতিক রাষ্ট্রপতির এক সাক্ষাৎকার নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সাক্ষাৎকারে তিনি গত ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কে ‘চরম অবমাননাকর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক উপায়ে যে তাঁকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছিলো সেসব বিষয় ফাঁস করেছেন।

বিশ্ব মিডিয়ায় সাহাবুদ্দিনের সাক্ষাৎকার নিয়ে ভীষণ চর্চা হচ্ছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দেশে প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সবারই কথা বলার অধিকার আছে। যে যার মতো করে কথা বলবেন, আর যারা জবাব দেওয়ার তারা জবাব দেবেন।’

তিনি যোগ করেন, সরকার কোনো পরিস্থিতিতেই কারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে না।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকারের বিষয়টি সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে যেখানে তিনি অনেকগুলো স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ টেনেছেন। বিশেষ করে বিএনপি প্রসঙ্গ এবং অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক তাকে সহযোগিতা না করার বিষয়গুলো সেখানে এসেছে। আমরা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছি এবং পর্যালোচনা শেষে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’

ইউনূস আর তাঁর গ্যাং সংবিধানবিরোধী কাজ করেছে। এর দায় অবশ্যই ইউনূসকে নিতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতে পারে।

অন্তর্বর্তীকালীন ড. ইউনূস সরকারের উপদেষ্টারা সংবিধান না মানায় কি অপরাধ করেছেন জেনে নিনঃ-

বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ক(১) কোন ব‍্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় –

(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ,রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ‍্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে ; কিংবা

(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত‍্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ‍্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে- তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে ।

(২) কোন ব্যক্তি ১ দফায় বর্ণিত-

(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে;কিংবা

(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে—

তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে ।

(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন‍্যান‍্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দন্ডর মধ্যে সর্বোচ্চ দন্ডে দণ্ডিত হইবে ।

এবার আগামিতে কী হতে চলেছে তার জন্য অপেক্ষায় দেশবাসী।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *