পঞ্চগড়: শুদ্ধভাবে জাতীয় সঙ্গীত লিখতে পারে না বোধহয় দেশে অনেকেই। আবার এরা ইনকিলাব, আর আজাদি, আর ভারত বিরোধিতা করে বেড়ায়। আবার মাঝে চাকরিতে ইন্টারভিউ দিতেও যায়।

“আমার বঙ্গবন্ধু আমার বঙ্গবন্ধু” বলে গলা ফাটানো জুলাই সমন্বয়ক ওরফে এনসিপি নেতা সারজিস আলম নিজের উপজেলার মানুষদের জাতীয় সঙ্গীতটাই শিখাতে পারলেন না!

শুধু ইনকিলাব ইনকিলাব করাই শেখালেন? জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধভাবে না জানা জাতি কতদূর এগোবে?

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চারটি ইউনিয়নে গ্রামপুলিশ (মহল্লাদার) শূন্য পদে নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেয়া ৩৮ জন প্রার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

জানা যায় ওই লিখিত পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত লিখতে বলা হলে অংশ নেয়া কোনো প্রার্থীই শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীতটাই লিখতে পারেননি।

২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে গ্রাম পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট, তেঁতুলিয়া, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে গ্রামপুলিশ নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়।

পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এরপর নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থীদের জাতীয় সংগীত লিখতে দেয়া হয়। সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত লিখতে পারেননি।

চিন্তা করুন এরা নিজের দেশের জাতীয় সঙ্গীত লিখতে পারছেন না, কী শিক্ষা ব্যবস্থা? কোন দেশপ্রেম?

এর ফলে অংশ নেয়া প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি নিয়োগ বাছাই কমিটি।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কোনো প্রার্থীই জাতীয় সঙ্গীতটি সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুনরায় এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *