ঢাকা: শেখ হাসিনার অধীনের সরকার ছাড়া কেউ দেশ ঠিক মত চালাতে পারবে না, তার নমুনা মাত্র শুরু। একথা আমাদের না, জনগণের।
আওয়ামীলীগ এর আমলে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ ইসরাইল ফিলিস্তিন যুদ্ধ- তখনও বিশ্বে তেল সংকট ছিলো কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার দেশের জনগণকে কোন কিছুর অভাব বুঝতে দেন নাই। কিন্তু এখন পরিস্থিতি দিনে দিনে ভয়াবহ হচ্ছে।
এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মার্কেট-শপিং মল বন্ধের সময়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অফিস চলবে সকাল নয়টা থেকে বিকেলে চারটা পর্যন্ত।
আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে উল্লেখ করে নাসিমুল গনি বলেন, “আজকে মূলত আলোচনাটা হয়েছে, আমরা কিভাবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে যেখানে আমাদের সাপ্লাই লাইনটা ইনসিকিউর হয়ে গেছে, সেটাকে মোকাবেলার জন্য আমরা কি কি ব্যবস্থা নিতে পারব। এর মধ্যে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার মধ্যে একটা আছে, বাণিজ্যিক অফিসগুলো আমরা কমিয়ে নিয়ে আসতেছি এক ঘন্টা করে। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস চলবে। এটা সরকারি-বেসরকারি সকল অফিস ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত চলবে।”
এছাড়া মার্কেট-শপিংমল বিকেল ৬টার পর আর খোলা রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
মানুষ সাধারণত শপিং করতে যায় সন্ধ্যার পর বা রাতের বেলা। মার্কেট যদি ছয়টা বাজে বন্ধ হয়ে যায় মানুষ চারটার পর অফিস থেকে বের হয়ে বাড়িতে না গিয়ে কি তখন শপিং করবে?
জ্বালানি সংকট কমানোর জন্য অফিস আদালতের সময়সূচী পরিবর্তন হলো, কিন্তু বিদ্যুতের খাম্বা থেকে যে মানুষ বিদ্যুৎ চুরি করে অটোরিকশা চার্জ দেয়, বিয়ে বাড়ির লাইটিং করে সেগুলো তো বন্ধ হলো না।
সচিবালয়ে এসি বন্ধ হলো না!
তেল সংকট দেখা দিয়েছে, আরো অনেক সংকট দেখা দেবে। বৈশ্বিক সংকট পড়বে বহিঃবিশ্বে, দুর্ভিক্ষ লাগার সম্ভাবনা অনেক।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “শিক্ষার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন জায়গায় যে চাহিদা আছে, বিভিন্ন পর্যায়ে সেটা বিবেচনা করে নিয়ে রোববার থেকে কিছু আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। এছাড়া সরকারি কিছু ব্যয় রাস কমানো হচ্ছে আগামী তিন মাস পর্যন্ত। সরকারি কোন নতুন যানবহন ক্রয় করা হবে না।
কোন জলজান ক্রয় করা হবে না। কোন আকাশযান ক্রয় করা হবে না। কোন কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় করা হবে না। এছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ যেগুলো আছে সেগুলো ৫০ শতাংশ বন্ধ করা হয়েছে। কোন আদেশ না পর্যন্ত সরকারি অর্থায়নের সকল বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ করা হয়েছে।”
“সভা সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস এই খাতে আমাদের যে ব্যয়টা হতো সরকার সেটা আরো ৩০ শতাংশ কমানো আজকে এফেক্টিভ হয়ে গেলে। তারপর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ভ্রমণ প্রয়োজন নেই, সেগুলো কমাতে বলা হয়েছে। এখানে আমরা ৩০ শতাংশ হ্রাস করে দিচ্ছি । এই সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।”
