ঢাকা: গাছের পাতা নড়েচড়ে, পদ্মা সেতু বললেই কার কথা যেন মনে পড়ে!? এই দেশে এমন কিছু পাকিস্তানের দালাল, রাজাকার আছে যারা পদ্মা সেতু দিয়ে আরামে, অনায়াসে যাতায়াত করছে আবার আরেক মুখে দেদার শেখ হাসিনার বদনাম করে যাচ্ছে!

পদ্মা সেতু দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য এক সত্যিকারের আশীর্বাদ। এক সময় যে নদী পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, আজ সেই পথ পাড়ি দিচ্ছি অল্প সময়েই।

বদলে গেছে জীবনযাত্রা, গতি পেয়েছে অর্থনীতি, খুলে গেছে উন্নয়নের নতুন দুয়ার।পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতু নয়,এটি বাঙালির আত্মমর্যাদা, সাহস ও সক্ষমতার প্রতীক।

নানা ষড়যন্ত্র, চ্যালেঞ্জ ও বাধা পেরিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কার জন্য হয়েছে? একমাত্র শেখ হাসিনার জন্য হয়েছে।

পদ্মা সেতু হওয়ার আগে ফেরিতে ওঠার সেই দুঃসহ স্মৃতিগুলো কি বাংলাদেশের মনে আছে?

​নাহ, আমরা তো আবার খুব দ্রুত ভুলে যাই! মেমোরি পাওয়ার অনেক কম।

এই কয়েক বছর আগেও দক্ষিণবঙ্গের মানুষের ঈদ যাত্রা মানেই ছিল ঘাটে মাইলের পর মাইল যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনিশ্চিত অপেক্ষা করা, রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে ফেরিতে ওঠা।

সেই অমানুষিক লড়াই শেষ করেছেন হাসিনা।

অসুস্থ রোগী নিয়ে ঘাটে আটকে থেকে অসহায় কান্নার দিনগুলোর কথা ভাবলে আজো শিউরে উঠতে হয়।

​বাংলাদেশে বসে থাকা রাজাকাররা অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস সত্য।

একটি পদ্মা সেতু বদলে দিয়েছে কোটি মানুষের ঈদযাত্রা। একটু যানযট আছে, তবে কোনো হয়রানি নেই। যানবাহনের চাপ থাকলেও ভোগান্তি নেই।

যদি ফেরী দিয়ে পারাপার হতে হতো তাহলে ১০ লাখ মানুষ পারাপার হতে অন্তত ৫ দিন সময় লাগতো। আগে এভাবেই পারাপার হতে হতো।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে।

গত মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার–এই তিন দিনে পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যেখানে ২০২৫ সালে একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। এবার এই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *