ঢাকা: নিরীহ মানুষগুলোকে মব করে হত্যা করা হচ্ছে। কুষ্টিয়ায় পীরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
তবে এতবড় ঘটনা ঘটলেও দেখলেন তো কুষ্টিয়ার উপরওয়ালার মুখে কোনো কথা নেই।
জানা যাচ্ছে, এই হত্যা ঘটনায় জড়িতদেরকে শেল্টার দিচ্ছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের তথাকথিত এমপি বিতর্কিত ও সমালোচিত ইসলাম ধর্মীয় বক্তা আমির হামজা।
শোনা যাচ্ছে, কয়েক বছর আগে মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে দৌলতপুর উপজেলার শামীম জাহাঙ্গীর দরবার শরীফের পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমের সঙ্গে আমির হামজার বিরোধ তৈরি হয়।
সেই বিরোধের জের ধরে এমপি হওয়ার পর থেকে নানাভাবে ওই পীর ও দরবার শরীফকে ঘিরে চাপ ও ষড়যন্ত্র চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এবং সবশেষ শনিবার তিন বছর আগের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে কোরআন শরিফ অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়ে দরবার শরীফে হামলা, ভাঙচুর এবং আগুন লাগানো হয়।
এবং দরবার শরীফের প্রধান পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীমকে দরবারের ভেতরেই কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আর প্রশাসন অনেক দেরিতে পৌঁছায় সেখানে। এর কারণ কী? প্রশাসন সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি।
বা কার নির্দেশে পুলিশ দেরিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছে এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে।
তবে আমির হামজার সাথে বিবাদ থাকুক বা না থাকুক, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির ওপর আঘাত শুরু হয়েছে, এই আঘাত আর কতদিন সেটা উপরওয়ালা জানবেন।
এর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তখন কোনো আমির হামজার দরকার পড়েনি। কারণ এই দেশে কোণায় কোণায় আমির হামজারা অবস্থান করছে।
ধর্ম অবমাননার অজুহাতে দরবার শরীফে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং পীর শামীম রেজা (কালান্দার বাবা)-কে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
এর রেশ ধরে দেশের গর্ব, প্রখ্যাত বাউল শিল্পী শফি মণ্ডল সাহেবের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে—আসলে এটাই কি আমাদের কাম্য ছিল?
একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে কেন লালনের উত্তরসূরিদের প্রাণভয়ে থাকতে হবে? কী দোষ তাঁদের? কেন বাউলদের ওপর বারবার আক্রমণ?
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কোথায়? মতপার্থক্য থাকলেই তাঁকে মেরে ফেলতে হবে?

পাহাড়া দিয়ে সংস্কৃতি বাঁচানো যায়? কয়দিন?
দেশের জনপ্রিয় বাউল সংগীতশিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।
আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বাড়ির সামনে ১০ জন পুলিশ সদস্যকে পাহারা দিতে দেখা গেছে।
ছড়িয়ে পড়া যে পুরনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে, তাতে বাউল শফি মণ্ডলকেও দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, বাউল শফি মণ্ডল পীর আব্দুর রহমান শামীমের ভক্ত বা অনুসারী নন।
তিনি একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে বিভিন্ন দরবারে যান। একই কারণে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ বলছে, বাউল শিল্পী শফি মণ্ডল বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কোনো হুমকি না থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গ্রামের ভাবনগর সংগীত আশ্রম ও শফি মণ্ডলের বসতবাড়িতে প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শফি মণ্ডলের জামাতা মুকুল হোসেন জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আমার শ্বশুরকে দেখা গেলেও তিনি শামীমের অনুসারী নন। তিনি একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে সেদিন সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি লালন অনুসারী এবং ধর্মবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার রাত থেকে শ্বশুরের বাড়ির এলাকায় পুলিশ অবস্থান করছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা আমরা কখনও ভাবিনি।’
