ঢাকা: ফেব্রুয়ারি মাসেই ১১ বার ভূমিকম্পে কেঁপেছে দেশ। গত কয়েক মাসে দেশে অনুভূত হয়েছে একাধিক ভূমিকম্প।
বারবার এমন কম্পনে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, ভূগর্ভস্থ প্লেট বাউন্ডারিতে প্রতিনিয়ত শক্তি সঞ্চিত হয়। এই শক্তি জমা হতে হতে যখন আর জায়গা পায় না, তখন তা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বের হয়ে আসার চেষ্টা করে।
বারবার এমন ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন হওয়ার অর্থ হলো সেখানে বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্পের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, বড়সড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে এগুলো। ফলে সব ধরনের স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ভূমিকম্প সহনীয় করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
ভবনগুলো মূলত নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। একটু ভুলে বহু প্রাণ চলে যেতে পারে।
দেশের বর্তমান অবকাঠামোগত পরিস্থিতি ভূমিকম্প মোকাবিলায় একেবারেই অপর্যাপ্ত।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ২১ লাখ বাসাবাড়ি আছে, যার ৩০ শতাংশই ছয় তলার চেয়ে উঁচু।
এবং এসব ভবনের প্রায় ৯০ শতাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। সারা দেশে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা অনেক আছে।
এমন অবস্থায় ভূমিকম্পের ভয়াবহতা মোকাবিলায় ঢাকা মহানগরীতে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবী প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)।
তিনি জানান, ভূমিকম্পের পর প্রাথমিকভাবে আশ্রয়ের জন্য শহরের খেলার মাঠ এবং স্কুলগুলো চিহ্নিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু) আরও জানিয়েছেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এই সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে আগামী ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
