ঢাকা: জামাত ২১শে ফেব্রুয়ারির গান মুছে দিতে চায়, ও মা ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।
এক পরীক্ষিত রাজাকার সাঈদীর পুত্র এখন একুশে ফেব্রুয়ারির তারিখ নিয়ে মায়া দেখানো শুরু করেছেন। এদের ভণ্ডামি দেখলে মরা বিড়ালও জেগে উঠবে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে বাংলা পঞ্জিকার ৮ই ফাল্গুনে পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন মাসুদ সাঈদী।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কাকে বলে? এ সম্পর্কে জ্ঞান আছে তাঁর সামান্য? সবকিছুতেই বিকল্প চিন্তা করে একটি দ্বন্দ্ব লাগানোর অপকৌশল রাজাকারের।
তাহলে ৫ই আগস্টকে ২১শে শ্রাবণ বলা যায় তাই না? বলে না কেন?
২১ শে ফেব্রুয়ারিকে বাংলা করে মাতৃভাষাকে বুকের মধ্যে ধারণ করার মায়া দেখানো হচ্ছে জামাতিদের।
যদি তাই হয় তা হলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, ইনকিলাব আজাদী ইনসাফ এগুলোর কী হবে? এ নিয়ে তো কথা বলতে শোনা যায় না?
এক সভায় দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করতে দিবসটি বাংলা তারিখ অনুযায়ী পালন করা যেতে পারে।
মূলত তিনি ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২১ ফেব্রুয়ারি কোনো সাধারণ তারিখ নয়; এটি ১৯৫২ সালের সেই দিন, যেদিন বাংলা ভাষার দাবিতে ছাত্ররা প্রাণ উৎসর্গ করেন।
পরবর্তীতে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে তারিখটি এখন শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে।
সমালোচকদের প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি দিবসের নির্দিষ্ট তারিখ পরিবর্তনের প্রস্তাব কতটা যৌক্তিক?
আসলে এরা একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা গান, কবিতা, একুশে ফেব্রুয়ারিটাই এখন মুছে দেয়ার পাঁয়তারা শুরু করেছে।
