চট্টগ্রাম: মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে তো কম গেম খেলা হলো না! মঙ্গল নাকি হিন্দুদের শব্দ!

সবেতেই মৌলবাদী, হিন্দু বিদ্বেষীদের সমস্যা। বলি কি সাপ্তাহিক বার সবই তো হিন্দুয়ানী শব্দ!

এই যেমন শনিবার, রবিবার, সোমবার। এই সাত বারেই হিন্দুরা সাত দেবতাকে পুজো করে। যেমন, রবি সূর্য দেবতা, সোম শিব, মঙ্গল হনুমান এইভাবে শেষ শনি – শনি দেবতার পুজো।

‘মঙ্গল’ হিন্দু শব্দ বলে বাদ দিলেন, তাহলে এইসব ও পরিবর্তন করা দরকার ছিলো!

ইউনেস্কো নাকি এই শোভাযাত্রাকে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন ইউনেস্কোকেই একটা চিঠি লিখে জানানো দরকার যে—বাপু, তোমাদের ওই ‘কালচারাল হেরিটেজ’ দিয়ে আমাদের পেট ভরবে না।

আমাদের দরকার এমন এক বাংলা নববর্ষ যেখানে কোনো ‘অশুদ্ধ’ মঙ্গল থাকবে না, এই মঙ্গলে বড্ড অ্যালার্জি।তাই নয় কি? অবস্থা তো এই জায়গাতেই দাঁড়িয়েছে!

ধর্মান্ধতা পরিহার করা দরকার, তাছাড়া এই দেশ উঁচুতে উঠতে পারবে না।

এটা পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান নয় এটা বাংলাদেশ, এদেশের জন্মকাল থেকেই সকল ধর্মের মানুষ একত্রে বসবাস করছে, ভবিষ্যৎ এও করবে।

তবে এই মঙ্গল শোভাযাত্রা যে কোন মূল্যে প্রতিহত করবে হেফাজতে ইসলামী।

সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক হিসেবে অভিযুক্ত করে পহেলা বৈশাখে সনাতনীদের ধর্মীয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ মুসলিমদের ওপর চাপানো যাবে না বলে হেফাজতে ইসলামীর নেতারা হুমকি দিয়েছে।

সম্প্রতি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর আসন্ন পহেলা বৈশাখে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের প্রচেষ্টামূলক বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক আখ্যা দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্যে আসন্ন পহেলা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপিত তাঁর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক বলে আমরা মনে করি। এছাড়া আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে পার্থক্য নেই বলে তাঁর দাবিটিও অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর।

তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আচরিত ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ করে বসে থাকবেন না।

বরং বাংলা সনের প্রবর্তক মুসলমানদের স্বকীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই এদেশের জাতীয় সংস্কৃতির কেন্দ্রকোরক হওয়াটা ন্যায্য।

তিনি আরো বলেন, ১৯৮৯ সালে ঢাবি চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। শুরু থেকেই এটির নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’।

কিন্তু ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ার পাপেট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরে এদেশের হিন্দুত্ববাদী কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে পূর্বের ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করে।

গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সরকার ঢাবি চারুকলার কালচারাল ফ্যাসিস্ট সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ উৎসবের আদি ও আসল নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ ফিরিয়ে আনে।

গণঅভ্যুত্থানের সরকার চলে যাওয়ায় সেই কালচারাল ফ্যাসিস্টরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে বলে আমাদের ধারণা।

এরাই অতীতে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় মরহুম খালেদা জিয়ার ‘অশুভ মূর্তি’ বানিয়ে নোংরা রাজনীতি করেছিল।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিরোধিতা বা আপত্তি করিনি। কারণ আমরা সাম্প্রদায়িকতা লালন করি না। কিন্তু আমাদের ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে যারা আবারও সুযোগ করে দিতে চাইবে, আমরা জুলাইর ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *