ঢাকা: বাংলাদেশের যে চৌকস একটা সমাজ ছিলো, যে শাণিত বুদ্ধি ছিলো, যে সুস্থ পরিবেশ ছিলো তা হারিয়ে গেছে।

এখন ধর্ম ব্যবসায়ীরা ঠিক করে দেন কে কী পোশাক পরবে, কে কোথায় যাবে, কে কী লিখবে?

মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া নাকি মুরতাদ? কে বলেছেন? বলেছেন একজন শিক্ষক!

ইউনূস বললেন না ১০০ বছরেও আরেকজন বেগম রোকেয়া হয়নি? হবে কীভাবে? হতে দেয়ার পথটা রাখলে তো?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আজকে বেগম রোকেয়ার জন্মদিনে চার নারীকে বেগম রোকেয়া পদক দিয়েছে এবছর। পাপের প্রায়শ্চিত্ত বলবো?

চার বিশিষ্ট নারীকে যখন বেগম রোকেয়া পদক তুলে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা, সেই মুহূর্তে নারী জাগরণের এই অগ্রদূতকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষক।

এরা কি আসলেই শিক্ষক? ভাবতেও অবাক লাগে? এরা সমাজকে কী শিক্ষা দেবে?

বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ’ ও ‘কাফির’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি। উক্ত শিক্ষকের নাম খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেগম রোকেয়া দিবসে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন।’

এ বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি সাজিদ হাসান নামের একজনের পোস্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে ওই কথাগুলো লিখেছেন।

তার দাবি, ‘ওই পোস্ট পড়ে মনে হয়েছে বেগম রোকেয়া ইসলামবিদ্বেষী ছিলেন। সাজিদ হাসানের পোস্টের পুরো লেখাটা পড়লে বেগম রোকেয়ার সেই পরিচয় এসে যায়।’

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এমন মন্তব্য ঘিরে ধিক্কার উঠছে। কিন্তু ঐ শিক্ষকের কি কোনো শাস্তি হবে? হবে না হয়তো, কারণ তাঁদের পেছনে আছে অন্তর্বর্তী সরকার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *