ঢাকা: আজকের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বাঙালির জন্য একটি লজ্জার দিন।

বাংলাদেশের জন্মের বিরুদ্ধে গিয়ে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করে, ২ লক্ষ নারীকে ধর্ষণ করে রাজাকার আবার বাংলাদেশের সংসদে গিয়েছে।

এই সংসদে বসেই রাজাকার ঠিক করবে বাংলাদেশ কিভাবে চলবে! এই বাংলাদেশে এখন মুক্তিযোদ্ধারা কারাগারে থাকে আর রাজাকাররা থাকে সংসদে।

বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে না দিয়ে, ভোটের নামে প্রহসন করে, আওয়ামী লীগকে সরিয়ে আজকের দিনে এই নিয়তির সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে জাতিকে।

বারবার বলতে ইচ্ছা করছে, আজকের সংসদ অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম জঘন্য ও লজ্জাজনক অধ্যায়।

স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার ও আল-বদরদের স্মরণ করে সংসদে শোক প্রস্তাব আনার মাধ্যমে বিএনপি-জামাত জোট আবারও প্রমাণ করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীত শক্তি।

বিএনপি যে শোধরায়নি, তা প্রকাশ করে দিলো আবারো।

সংসদ নয় এটা মনে হচ্ছিলো একটা রঙ্গমঞ্চ।

মহান জাতীয় সংসদে আছে শুধু রাজাকার, রাজাকার আলবদর এর দোসররা।

যুদ্ধাপরাধী খুনি এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম। আজ সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছে। ১৯৭১ সালে ১,৪০০ জন নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যায় অংশ নেওয়া যুদ্ধাপরাধী খুনি এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম। দেশবাসী দেখছে, মুক্তিযোদ্ধাদের চোখের পানি পড়ছে।

ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত অধ্যায় আজ, সংসদে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অংশ নিয়ে কলঙ্কিত করলো। এটি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, সভ্যতার বিরুদ্ধে যাত্রা শুরু।

“যদি জুলাই ২৪ না হত, আমার মতো লোক ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারত না।” এই কথাটি বলেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এটিএম আজহারুল ইসলাম।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে আসল সত্য
তো বোঝাই গেলো। জুলাই ষড়যন্ত্রের পিছনে কারা ছিল।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম পরিষ্কার বলেছেন, জুলাই না হলে ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারতাম না।

এ টি এম আজহার বলেন, ‘আমরা যারা কারাগারে ছিলাম, তারা কেউ জুলাইকে অস্বীকার করতে পারব না।
আমি জামায়াতের দায়িত্ব থাকার সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। তিনি দেশের প্রতি সব সময় আপসহীন ছিলেন। দেশের সব বিষয়ে তিনি অটল ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যাদের সঙ্গে আন্দোলন করেছি তারা আজকে অনেকে এই সংসদে নেই।
সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে আমি ছাত্রাবস্থা থেকে ছিলাম। তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমাকেও মিথ্যা মামলায় ফাঁসির হুকুম দেওয়া হয়েছিল।

নিজামীকেও মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে হাসপাতালে ভর্তি করে ভুল চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *