ঢাকা: লাশের পাহাড়ে গণভোট ও নির্বাচন?

এই সরকার, জামাত শিবির প্রায় সকলেই গণভোটের বাস্তবতাকে জনগণের সামনে আনছে না। শুধু হ্যাঁ – না-তেই তো সব শেষ হয়ে যায় না। অথচ এই হ্যাঁ না দিয়েই বোঝানো হচ্ছে।

গণভোটের প্রশ্নগুলো এতটাই অস্পষ্ট যে জনগণ বুঝতেই পারছে না—এর ফল কী।

আর একদিকে, লাশের পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে এই গণভোট ও নির্বাচন—এটাই কি গণতন্ত্র?

তথাকথিত গণভোট একটি সাংবিধানিক প্রতারণা।

দেশের সাধারণ মানুষকে বুঝতে হবে, এই গণভোট তাদের জন্য নয়, এটা বাস্তবিকভাবে একটা রাজনৈতিক ফাঁদ। এর মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে এটি গণভোট নয়, জনগণের মতামতকে পাশ কাটিয়ে একটি পূর্বনির্ধারিত এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার সুপরিকল্পিত চেষ্টা।

এই গণভোটের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর আইনি কাঠামো। অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের নামে আগামী সংসদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এসব বিষয় জনগণের কাছে পরিষ্কার করে বলা হচ্ছে না, অথচ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিলে এসব বিষয়েও সম্মতি দেওয়া হয়ে যাবে। এই বিষয়গুলো একদম আড়ালে রাখা হয়েছে।

নারীবিদ্বেষী রাজাকার শফিকুর সাহেব তো ভীষণ আধুনিক! তাই হ্যাঁ ভোটের প্রচার করছেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা ও অগ্রগতি, ‘না’ মানে গোলামি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বড় কুলালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সোমবার নির্বাচনি জনসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি-স্বাধীনতা, আর ‘না’ মানে গোলামি।

“গণভোটের বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবে, জনগণ ধরে নেবে তারা আবারও পরিবারতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”

“৫ অগাস্টের পর চারদিন দেশে সরকার না থাকলেও কোথাও লুটতরাজ হয়নি। উন্নত অনেক দেশেও এমনটা দেখা যায় না। সমস্যা জনগণের নয়, সমস্যা ছিল নেতৃত্বে।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *