গাজীপুর: কোনো সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই। যে যেভাবে পারছে সেভাবে লুটছে ভাড়া। যেতে হলে বাড়তি টাকা দাও, না দিলে যেও না।
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ঈদযাত্রায় ভাড়ার নৈরাজ্য! ১৫০ টাকার ভাড়া এখন চাওয়া হচ্ছে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।
বাড়তি ভাড়া দিতে চাইলেও টিকিট নেই। ট্রেনে মহিলারা টিকিট কেটেও একটু জায়গা নেই। মহিলাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। কী যে লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে দেশটা।
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহগামী এক যাত্রী অভিযোগ করেন, নাড়ির টানে বাড়ি গিয়ে লাভ নেই। ভাড়া ৩০০, লইতাছে ৮০০।
যাত্রীদের অভিযোগ—সব জায়গায় চলছে ভাড়া সিন্ডিকেট, নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে—এভাবে কি আর ঈদে বাড়ি ফেরা সম্ভব?প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি ভুক্তভোগীদের।
সরকারের কোনো কথা নেই, কেবল ঈদের ছুটি নিয়ে ব্যস্ত তারা।
এবার ঈদে বাড়ি ফেরার অভিজ্ঞতা প্রত্যেকের খুবই হতাশাজনক ও কষ্টদায়ক। সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসার সময়েই পরিবহন খাতে এমন অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
যেখানে নিয়মিত ভাড়ার তুলনায় ৪-৫ গুণ বেশি নেওয়া হচ্ছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা বা অকার্যকর ভূমিকা জনগণকে ভীষণ হতাশ করছে।
শুধু কী তাই? দুর্ঘটনা একের পর এক ঘটছে। ট্রেনে তিল ধারণের জায়গা নেই। ঝুঁকি নিয়ে ছাদে পিঁপড়ার মতো ঝুলে আছে মানুষ। বাংলাদেশের কোনো সরকারই এই ছাদে ওঠা বন্ধ করতে পারলো না।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে দাবি করছেন, নিয়মিত ভাড়ার চেয়েও নাকি কম নেওয়া হচ্ছে! বাস্তবতার সাথে এমন বক্তব্যের কোনো মিল নেই।
সাধারণ মানুষ যখন চরম ভোগান্তির শিকার, তখন এই ধরনের মন্তব্য যেন ক্ষততে লবণ ছিটানোর মতো।
ঈদের মতো আনন্দের সময়ে পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়াটা হওয়া উচিত স্বস্তির, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা যেন এক ধরনের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। আবার যেতে পারবেও কিনা, নাকি পথেই জীবন দিতে হয় তা তো জানা নেই!
ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য এবার ২০ বছরের রেকর্ড ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
বুধবার সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানান, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাস মিনিবাসসহ বিভিন্ন পরিবহনে ব্যাপক হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের সিটি বাসে নৈরাজ্য শুরু হয়েছে।
ঢাকা থেকে পাবনা, নাটোর ও রংপুরসহ বিভিন্ন রুটে ভাড়া দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট না দিয়ে দূরের গন্তব্যের টিকিট কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
সরকার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হাতে না নিলে, কেবল ‘প্রধানমন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিস করছেন’ এমন কাজে কোনো কাজ নেই।
