ঢাকা: এই সোনার বাংলায় সাবেক রাষ্ট্রপতির ঘরে হামলা, ভাঙচুর হয়, সাবেক সেনা সদস্যের বাড়িতে চুরি হয়, হাতকড়াসহ আসামি পুলিশের গাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, সরকার চুরি করে- এই দেশে আর কিনা হয়?

যেই দেশে চুরি, ডাকাতি ঠেকাতে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয় কিন্তু সেই ক্যামেরাই চুরি হয়ে যাওয়ার ভয়ে লোহার গ্ৰিলের মাধ্যমে সিকিউরিটি দিতে হয় সেই দেশে শুধু সেনা সদস্য নয়, প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতেও চুরি হওয়া স্বাভাবিক বিষয়!

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঘটনায় মানুষ আরো বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গভীর রাতে প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে খোদ অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্যের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এটাও সম্ভব? ইউনূসের আমল চলছে তো, সব সম্ভব।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিনগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার খইয়াছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাছিমেরতালুক এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সার্জেন্ট মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ডাকাতদল আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসেছিলো। সেগুলো দেখিয়ে শিশুদের গলা চেপে ধরে পরিবারের ৫ সদস্যকে জিম্মি করে৷

ঘরের কর্তা সেনাসদস্য সুফিয়ানকে পরনের লুঙ্গি দিয়ে হাত মুখ বেঁধে রাখে। দুই শিশুকে অত্যাচার করে। তারা কান্না করায় গলা চেপে ধরে। সদস্যদের মারধর করে বেঁধে মুঠোফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সার্জেন্ট আবু সুফিয়ান বলেন, আমার দুই ছেলে চাকরির সুবাদে শহরে থাকে৷ ঘরে আমার দুই ছেলের বউ দুই নাতি আর আমার সহধর্মিণী ছিল৷

ডাকাতদল রাত দেড়টা নাগাদ দরজার তালা ভেঙে আমার রুমে ঢুকে কিছু বুঝে ওঠার আগে আমার পরনের লুঙ্গি দিয়ে আমার হাত বেঁধে ফেলে৷ পাশের রুম থেকে আমার ছেলের বউ নাতিদের শব্দ শুনতে পাই৷

আবু সুফিয়ান বলেন, পরবর্তীতে ডাকাতদলের সদস্য আমার দুই নাতির গলা চেপে ধরলে ছেলের বউরা চিৎকার করে। এসময় তাদের বেধড়ক চড় থাপ্পড় ও মারধর করে৷ কানের দুল জোর করে নেওয়ার জন্য প্রচণ্ড আঘাত করা হয়।

তারা আমার পরিবারের সদস্যদের ১০ ভরি সোনা, ২৫ হাজার ৭০০ টাকা, ৪টি মুঠোফোন নিয়ে যায়৷ ঘরের ভেতর সাতজন ডাকাত প্রবেশ করলেও বাইরে আরও কয়েকজন পাহারায় ছিল।

ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর সবার রুম বন্ধ করে দিয়ে যায়, শুধু আমার স্ত্রীর রুমের দরজা খোলা ছিল৷ সে সবার দরজা খুলে দিলে পুরাতন বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিই৷

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ডাকাতির ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি৷

তবে এখনো কাউকে হয়তো গ্রেপ্তার করতে পারেনি এরা। পারবে বলে মনেও হয় না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *