ঢাকা: কর্মজীবী নারীদের জামায়াত কোন চোখে দেখে তা তারা চাইলেও লুকিয়ে রাখতে পারবে না। কারণ তাদের রক্ত কথা বলে।
দেশের খেটে খাওয়া কর্মজীবী নারীদের রাজাকারদের মুখপাত্র জামায়াত এর আমির শফিকুর রহমান বেশ্যাদের সাথে তুলনা করেছেন। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় দেশবাসী।
৭১ এরা ২ লক্ষ মা বোনদের ইজ্জত হনন করেছে, এখন তারা নারীদের শুধু মাত্র ভোগ্য পণ্য হিসেবেই ব্যবহার করতে চায়। অবশ্য নারী মানেই তাদের কাছে গণিমতের মাল।
এমন বহু নারী আছেন, যারা সংসারটা ধরে রেখেছেন, পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন তাঁরা বেশ্যা?
এক্স হ্যাক হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে কেউ ফেরত পায় না। যা তারা পেয়েছে।
জামায়াত নেতার ডাকসুকে বেশ্যার আখড়া অভিহিত করা, ভিন্ন দলের নারীদের শারীরিকভাবে হেনস্তা করা নেতাদের চট্টগ্রামে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা, নিজ জোটের নারী প্রতিনিধিদের পর্যন্ত স্লাট শেইম করা, এগুলা সবই এক সূত্রে গাঁথা।
এসব কিছুর পরেও যে নারীদের একটা বড় অংশের ভোট যে জামায়াত পাবে এটা আমাদের সামগ্রিক রাজনীতির দৈন্যই শুধু প্রকাশ করে।
নীলা ইসরাফিল এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন: ‘যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে কর্মজীবী নারীদের চরিত্র নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, সে কোনো “মতামত” দেয় না সে নিজের Misogyny (মিসজিনি) আর Authoritarian Personality (অথরিটারিয়ান মানসিকতা) নগ্নভাবে প্রকাশ করে।
এটা ধর্ম নয়, এটা নৈতিকতা নয় এটা Fragile Masculinity থেকে জন্ম নেওয়া ভয়।
যখন একজন পুরুষ নারীর স্বাধীনতায় আতঙ্কিত হয়, তখন সে নারীকে মানুষ না ভেবে “নিয়ন্ত্রণের বস্তু” বানাতে চায়। এটাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় Cognitive Distortion বিকৃত চিন্তাধারা।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের বক্তব্য সেই বিকৃত চিন্তারই প্রতিফলন।
তিনি নারীদের অপমান করেননি শুধু তিনি প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতার আসনে বসে থেকেও তিনি নারীর সমতা মেনে নেওয়ার মানসিক সক্ষমতা রাখেন না।
আমরা স্পষ্ট দাবি জানাই প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, নারীবিদ্বেষী বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং স্বীকার করতে হবে এ ধরনের চিন্তা সমাজের জন্য বিপজ্জনক
নারীর সম্মান নিয়ে রাজনীতি করা যাবে না’।
আরো লেখেন, ‘নারীকে হেয় করা কোনো “ধর্মীয় অবস্থান” নয় এটা মানসিক পশ্চাদপসরণ। নারীর মর্যাদা অখণ্ড। নারীবিদ্বেষের কোনো ছাড় নেই। ক্ষমা চাইতেই হবে’!
