ঢাকা: সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি আল জাজিরা ইংলিশের সঙ্গে যে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারটি দিয়েছেন, সেটি দেখে দেশবাসী তথা ৭১ এর পক্ষ একটাই কথা বলছে- মুজিব থেকে সজীব!

সেটি দেখলে যে কেউ অবাক না হয়ে পারে না।

ভিডিওটি ইতিমধ্যে ভাইরাল।

এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল— জয়ের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, বসার স্টাইল, চোখের কন্টাক্ট, আর কথা বলার ভঙ্গি।

তিনি পুরো সময়টায় ছিলেন অসম্ভব শান্ত, স্থির এবং আত্মবিশ্বাসী। চোখে চোখ রেখে জবাব দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে এই সাক্ষাৎকার ভিন্নরকম সকলের কাছে।

আল জাজিরার প্রশ্নগুলো ছিল বেশ অ্যাগ্রেসিভ এবং লিডিং টাইপের। প্রশ্নের মধ্যে বিদ্ধ করার ভাব তো ছিলোই।

জুলাই–আগস্টের ঘটনা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংখ্যালঘু ইস্যু, নির্বাচন, শেখ হাসিনার ভূমিকা—সব প্রশ্ন একসাথে টেবিলে ছুঁড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিটা প্রশ্ন খুব ধীরে উত্তর দিয়েছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেননি।

বরং পরিস্থিতি যত উত্তপ্ত ছিল, তার তুলনায় তিনি মানবিকতা দেখিয়েছেন।

অনেক ক্লিপে “From Mujib to Sajeeb” টাইপ লিগ্যাসির কথা এসেছে, কিন্তু জয় এটাকেও গ্লোরিফাই না করে শান্তভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

দেখা গেছে, আল জাজিরার সাংবাদিক অবৈধ ইউনুস সরকার, মাস্টারমাইন্ড, লালবদর, জুলাই সন্ত্রাসীদের কোন কুকর্ম সম্পর্কেই জয়কে কথা বলতে দিচ্ছিলেন না, তাও তাদের সকল ভিত্তিহীন অভিযোগ জয় খুব যৌক্তিকভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন  “আমি বারবার বলেছি, আওয়ামী লীগ এই আন্দোলনটি ভুলভাবে পরিচালনা করেছে, আমাদের সরকার আন্দোলনটি ভুলভাবে হ্যান্ডেল করেছে।”

এ সময় সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “শত শত নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক হত্যার ঘটনাকে কি কেবল ‘ভুলভাবে পরিচালনা’ বা ‘মিসহ্যান্ডলিং’-এর মতো মৃদু শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায়? যেই হত্যার নির্দেশ আপনার মা দিয়েছিলেন?”

জবাবে জয় মায়ের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেন। তিনি বলেন, “এর কোনোটিই আমার মায়ের নির্দেশে হয়নি।”

সজীব ওয়াজেদ জয় আরও বলেন, “যদি আমার মা আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে ইচ্ছুক হতেন, তবে তিনি এখনও ক্ষমতায় থাকতেন।”

দেখুন সজীব ওয়াজেদ জয়ের তীক্ষ্ণ উত্তর:

https://www.facebook.com/share/v/14Tw8nqPP8E/

সাক্ষাৎকারের শেষে জয় একটি প্রশ্নের উত্তরে প্রসঙ্গক্রমে বলেছেন ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ যখন আবার রাজনীতিতে আসবে সেটি সম্ভবত তার মায়ের নেতৃত্বে হবে না। তার মা বৃদ্ধ এবং কেউই এই পৃথিবীতে আজীবন বেঁচে থাকে না।

জয় আরও বলেছেন আওয়ামী লীগ একটি পুরনো রাজনৈতিক দল, যারা ৭০ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে, এবং এর সমর্থক বাংলাদেশের ৪০-৫০ শতাংশ মানুষ, তাই নেতৃত্বের জন্য আওয়ামী লীগ আটকে থাকবে না।

দেখুন সে বার্তা:

https://www.facebook.com/share/v/1NEY1UsNfj/

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্ভবত বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর ফিরবেন না এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেবেন না।

জয়ের এই সাক্ষাৎকার কি তাঁর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই নিয়ে বহু প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।

শেখ হাসিনার জীবনে তো কম ঝড়ঝাপটা যায়নি, কমবার তাঁকে হত্যাচেষ্টা হয়নি।

সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি শুধু একটি দল নয়, দীর্ঘ সময় একটি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন।

উন্নয়ন, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান সব করে গিয়েছেন।

দেড় বছর হলো তিনি দেশে নেই। আওয়ামী লীগ দোষে গুণে আবারো নিজেদের সংশোধন করে শক্ত হচ্ছে।

বাস্তবতা হলো, আওয়ামী লীগ এবং তার সমর্থকদের কাছে শেখ হাসিনাই এখনো একমাত্র ভরসার জায়গা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *