ঢাকা: দেশে শিশু ও নারী ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটছে। এই দেশে শিশুরাও নিরাপদ নয়। মেয়েরা নিজের ঘরেই নিরাপদ নয়, বাইরের কথা তো অনেক দূর।
সরকার যেই আসুক, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ রোধ করতে পারেনি কেউ। নারীদের বেশ্যার চোখে দেখা হয়।
কত প্রতিবাদ, কত মোমবাতি মিছিল, কত লড়াই- নাহ! সমাজটা পরিবর্তন হলো না বরং আরো অধঃপতনে গেছে।
এবারো নারী নিপীড়নের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ঘটনার প্রতিবাদ এবং দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন দেশের সম্মিলিত আবৃত্তিশিল্পীরা।
“চিৎকার করো মেয়ে, দেখি কতদূর গলা যায়”- স্লোগানে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদী আবৃত্তি আয়োজন।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই আয়োজন। শিল্পীরা দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ, নারী নিপীড়নের ঘটনাগুলো তুলে ধরে সারাদেশের মানুষকে এক হওয়ার আহ্বান জানান।
সাত বছরের শিশু, সে কী বোঝে? মুখ থেকে মায়ের দুধের গন্ধ যায়নি এখনো, তাকে ধর্ষণ করে গলা কেটে খুন করেছে এক ধর্ষক। সে জামাতের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আগেই তসলিমা নাসরিন।
এবার ফের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন এই ঘটনা সম্পর্কে।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন:
“জুম ইন করে বাচ্চাটির ছোট ছোট আঙ্গুলগুলো দেখুন। কতটুকু আস্থা আর কতটুকু বিশ্বাস সেই আঙ্গুলগুলোয়! শক্ত করে ধরে আছে খুনীটির হাত। কতটুকু ভরসা এই কাকাকে!
কাকা তাকে চকলেট কিনে দেবে, কাকা তাকে বেড়াতে নিচ্ছে, কাকা তাকে পাহাড় দেখাবে, কাকা কত ভালো। আর একটু পরেই, খুনীটি ওকে কিল ঘুষি থাপ্পড় মারবে, চিৎকার করলে ওর গলা চেপে ধরবে।
ওর প্যান্ট খুলে নেবে হেঁচকা টান দিয়ে, প্যান্টটাকে ওর মুখের ভেতর গুঁজে দেবে, বাচ্চাটির যৌনবোধ নেই, কিন্তু বাচ্চাটিকে যৌন নির্যাতন করবে।
বাচ্চাটির ছোট্ট জরায়ু, যোনীপথ, মলদ্বার, মুত্রাশয় সব ছিঁড়ে ফেটে একাকার হয়ে যাবে। আর একটু পরই দানবটি ওকে জবাই করে পালাবে।
বাংলাদেশের কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। ছেলে-শিশু, মেয়ে- শিশু কাউকে বাদ দিচ্ছে না বর্বর পুরুষেরা, তাদের নৃশংসভাবে ধর্ষণ করছে, তাদের জীবনের সর্বনাশ করছে, তাদের খুন করছে।
কোনও পুরুষকে বিশ্বাস করবেন না। এদের চরিত্র সংশোধন করার জন্য রাষ্ট্র উদ্যোগ নিক, এদের সংশোধনাগারে রাখুক। এরা শুদ্ধ হওয়ার পর নারী জন্ম দেবে শিশু। তা না হলে বন্ধ থাকুক শিশু জন্ম”।
