ঢাকা: বাংলাদেশে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানানো শেষে সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন। পরে দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়ে এবং এরপর তার স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
তবে…? এরা কী করলেন?
দোয়া-দরুদ-মোনাজাত যেখানে সেখানেই করতে পারেন, এটা আপত্তির কিছু না। কিন্তু ভুলে না যাই, শহিদ মিনার কোনো ধর্মীয় জায়গা না, এটা নয় কোনো ধর্মশালা। এখানে মোনাজাত ধরা দেশ-জাতি ও সুদীর্ঘ ইতিহাসের সাথে সাংঘর্ষিক।
শহিদমিনারে মানুষ যেতে পারে শুধু শহিদদের স্মরণে; ওখানে কেউ মানত করতে যায় না।
কিন্তু তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হয়েই সে কাজটি করলেন, সম্মিলিত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির দীর্ঘবছরের দাবিকে একমূহুর্তে বাস্তবে রূপদান করলেন মোনাজাত ধরে।
তবে বিষয় হচ্ছে, সবকিছুকে ধর্মীয়করণের ফল ভালো হতে পারেনা।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:
” পবিত্র শহীদ মিনারকে অপবিত্র মসজিদ বানাবার পাঁয়তারা যারা করছে, তারা লোক ভাল নয়।
মসজিদে আজকাল শিশু ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা, সংশয়বাদীকে কুপিয়ে হত্যা, মারণাস্ত্র লুকিয়ে রাখা, ইয়াবা লুকিয়ে মাদক ব্যবসা চালানো, জঙ্গি প্রশিক্ষণ — কী না হয়!
খুব ভোরবেলা মানুষ প্রভাতফেরিতে খালি পায়ে হাঁটবে। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি গাইতে গাইতে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দেবে। শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে।
এতকাল এ-ই হয়েছে। এই দৃশ্যটিই আমরা জন্মের পর থেকে দেখে অভ্যস্ত।
কিন্তু এ কী দেখি এখন! মোনাজাতের হাত তুলেছে লোকেরা। যেন মিলাদ মাহফিল চলছে। কদিন পর হয়তো এই চত্ত্বরে লোকেরা নামাজ পড়তে আসবে। একটা ইমামও জোগাড় হয়ে যাবে।
ধর্ম ব্যবসায়ীরা ওয়াজ করতে আসবে। অবাধে চলতে থাকবে অবৈধ, অশ্লীল কীর্তিকলাপ। মানুষ এক সময় ভুলেও যাবে এই চত্বর ঠিক কী উদ্দেশে নির্মিত হয়েছিল।
মোনাজাতের হাতদুটোকে সংযত করা শিখতে হবে। এটা আপাতত খুব জরুরি। মেঝেয় কপাল ঠুকে ঠুকে যারা কপাল কালো করে, তারা কোনও অর্থেই বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক মানুষ নয়, অলৌকিকে বিশ্বাস তাদের ভয়াবহ রকম প্রবল।
যে যত বড় বড় কথাই বলুক, তাদের দৌড় কিন্তু মসজিদ পর্যন্ত। দৌড়ে শহীদ মিনার পর্যন্ত পৌঁছতে হলে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস, ভিন্ন ভাষার আগ্রাসন থেকে মুক্ত হয়ে জীবনের বিনিময়ে মাতৃভাষাকে সম্মান করার ইতিহাস, অতঃপর শাসকের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে নিজের রক্ত দিয়ে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠিত করার ইতিহাস — অন্তরে ধারণ করতে হবে”।
