ঢাকা: নারী সুরক্ষা দেবার জন্য মনে হয় জামাতের চোখের ঘুম উড়ে গেছে। অথচ এই জামাত কর্মজীবী নারীদের বেশ্যা মনে করে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলছেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে গৃহে এবং কর্মস্থলে নারীদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।’
ভোটের জন্য একটাই কথা তাদের মুখে।
অথচ এই জামায়াতের আমির ধর্ষণের শিকার নারীকে ‘অসৎ নারী’ বলেছেন। বলেছেন “রেপ ত দুইটা অসৎ পুরুষ ও নারী যখন একত্রিত হয় বিবাহ-বহির্ভূত অবস্থায়- সেটার নাম রেপ হবে।”
তাঁর কথা অনুযায়ী রেইপ হওয়া ৮ মাসের শিশু, ৪ বছরের বাচ্চা কিংবা ৭০ বছরের বৃদ্ধা সবাই অসৎ নারী।
কোনো দোষ নেই পুরুষের। ভাবুন জামায়াত ক্ষমতায় আসলে এই লোকটাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। এরপর যদি শিশু কন্যা,বোন,বউ ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে কার কাছে বিচার চাইবে তারা?
জামাত আমীরের এই কথার মাঝেই আছে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি!
তসলিমা নাসরিন শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।
তিনি পরিষ্কার লিখেছেন ফেসবুকে:
“এই শিশুকামী পিডোফাইল কি জানে না ধর্ষণের সংজ্ঞা? এ নাকি ডাক্তারি পড়েছে! থার্ড ইয়ারে যে মেডিক্যাল জুরিসপ্রুডেন্স পড়ানো হয়, সেখানেই তো লেখা আছে ধর্ষণের সংজ্ঞা।
ধর্ষণের সঙ্গে বিবাহের কোনও সম্পর্ক নেই। ধর্ষণের সঙ্গে সম্পর্ক সম্মতিহীন যৌনসম্পর্কের। এই পিডোফাইল যেমন বাচ্চাদের সাঁড়াশির মতো ধরে ঠোঁটে চুম্বন ক’রে যৌন হেনস্থা করে, এবং মনে করে জামাতের আমীর হিসেবে তার অধিকার আছে শিশুদের যৌন হেনস্থা করার, তেমন সে মনে করে প্রতিটি পুরুষের অধিকার আছে তাদের স্ত্রীদের ধর্ষণ করার, অধিকার আছে স্ত্রীদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও, অনীহা সত্ত্বেও, ঘোরতর আপত্তি সত্ত্বেও জোরজবরদস্তি যৌনকর্ম করার ।
অবিবাহিত নারী পুরুষ পরস্পরের সম্মতিতে যৌনকর্ম করলে যে তা ধর্ষণ নয়, তা কি সে জানে না?
জানে, কৌশলে সভ্য আইনকে সে বদলে দিয়ে অসভ্য আইন আনতে চায় দেশে। যেন তাদের মতো বদ পুরুষের সুবিধে হয়।
একদিন এই পিডোফাইল বলবে, পুরুষেরা যদি তাদের স্ত্রীদের হত্যাও করে, তা হত্যা নয়, কারণ স্ত্রীরা তো স্বামীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, নিজের সম্পত্তিকে যা খুশি করার অধিকার পুরুষের আছে!
তাই তো, ধর্ষণ করার অধিকার যদি থাকে, খুন করার অধিকার থাকবে না কেন?
এই পিডোফাইল বাংলাদেশকে নরক বানানোর স্বপ্ন দেখছে”।
