কুষ্টিয়া: কোনো আনন্দ থাকবে না এই দেশে, কেবল থাকবে কাটাকাটি, খুনোখুনি। কারণ সংস্কৃতি এখন মৌলবাদীদের হাতে জিম্মি।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট (গান বাজনা) নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কেউ সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট বাজালে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। এমনকি তাদের কবরস্থানে দাফন করতেও দেয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনব্যাপী প্রচার মাইকিং করে এই জেহাদি ঘোষণা দেয় বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন গ্রামটির একাংশ মানুষ।
একাধিক ব্যক্তিরা জানান, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এভাবে গানবাজনা নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। কেউ সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট অতিরিক্ত শব্দে বাজালে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সচেতন করা যেতে পারে। অথবা প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এভাবে মাইকিং করে বন্ধ করা ঠিক নয়।
এটাকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়ে কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকর লিটন আব্বাস বলেন, ‘প্রতিটা মানুষ স্বাধীন। আমরা কারো ওপর কিছু চাপায় দিতে পারিনা। এটা বন্ধ করার আইন – ইখতেয়ার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। প্রত্যেকটা ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি নিজস্ব চেতনা আছে। এটা সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে। সুতরাং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।’
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান লেখক তসলিমা নাসরিন। তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন:
“কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স, মাইক সেট বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ওই গ্রামের মসজিদ কমিটি। কেউ বাজালে তাদের মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হবে।
বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, ২৭ মার্চ, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন যে বড় মাজগ্রাম মহল্লার অধীনে কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স ও মাইক সেট বাজানো হলে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সব কার্যকলাপ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে।
মসজিদের উন্নয়নে তাদের থেকে কোনো সহায়তা নেওয়া হবে না। কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এককথায় সামাজিকভাবে তাদের বর্জন করা হবে।
ধর্ম সংক্রামক। এই নিষেধাজ্ঞার পর আরও মহল্লা আরও গ্রাম, আরও অঞ্চল গান বাজনা নিষিদ্ধ করবে।
গানবাজনা না করাই তখন সংস্কৃতি হয়ে উঠবে। সংস্কৃতিকে ধর্ম না করে, ধর্মকে সংস্কৃতি করলে তা কবরের অন্ধকারের মতোই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ দিন দিন অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে”।
