ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকার তথা ইউনূস গং সংখ্যালঘুদের এই দেশের নাগরিক মনে করে না। প্রতিদিন ভয়ে বাঁচে সংখ্যালঘুরা।
জীবন্ত জ্বালিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে এদেশে হিন্দুদের। এর বিচার নেই। অথচ ভারতবিরোধী কট্টরপন্থী হাদির কারণে সরকারের দরদ উথলে পড়ে। অবশ্য হাদিও ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের শিকার। সরকারের ড্যামেজ কন্ট্রোল।
আর সংখ্যালঘুদের মারলেই কী বাঁচালেই কী? কেউ তো আর বলতে আসবে না যে কেন মারা হয়েছে? প্রশ্ন করলেই ভুয়া মামলায় ১৪ শিকের ভেতরে ঢুকানো হবে।
গত দেড় বছরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করেছে। সরকারের বিরুদ্ধে সাফ মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
তিনি বলেছেন, ‘১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জন হচ্ছে– বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের স্থায়ীভাবে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করা।’
রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিতে মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রামের রাউজান ও মীরসরাইয়ে সম্প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীর অন্তত ১৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রাতের বেলা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে এসব অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এমন ‘নির্মম ঘটনার’ প্রসঙ্গ তুলে রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “আমরা দেখেছি মীরসরাইয়ে ডাকাতি করে নাই, কিচ্ছু নিয়ে যায় নাই। বাইরে থেকে সিটকিনি দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। তার মানে একটা প্যানিক তৈরি করা। আবারো পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। ভয় তৈরি করা, যেন এরা ভোটে না যায়।”
তার ভাষ্য, “আবার ভোট দিতে না গেলে একটা বিশেষ পলিটিক্যাল পার্টির সঙ্গে যুক্ত করে বলা হবে এই কারণে নির্বাচন বয়কট করেছে। আবার হেরে যাওয়া প্রার্থীরাও বলে, ‘তোমার কারণে আমি পার হতে পারিনি’।”
এই ‘দ্বিমুখী প্যারাডক্সে’ সংখ্যালঘুরা রয়েছেন। রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “ভোটের কথা আপনি বলছেন, সে যে ভোটে যাবে তার নিরাপত্তা দিতে হবে এবং ফিরে এসে সে তার বাসায় থাকতে পারবে কি না।”
প্রশাসনের ব্যর্থতাকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করেছেন তিনি।
“বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, কিন্তু অন্য ধর্ম শান্তিতে পালন করা যায়নি এই ১৮ মাসে। আমরা দেখলাম—অন্য ধর্ম শান্তিতে পালন করা যায় না।”
সিটিজেনস অব হিউম্যান রাইটসের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন লিখিত বক্তব্যে রাউজান ও মীরসরাইয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “এসব ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে, এ পরিবারগুলোর সকলকে পুড়িয়ে মারাই ছিল অগ্নিসংযোগকারীদের উদ্দেশ্য। এসব এলাকার সনাতন ধর্মের মানুষ এখন রাত জেগে পাহাড়া দিয়ে পালাক্রমে ঘুমাচ্ছেন এবং নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে এলাকা পর্যবেক্ষণ করছেন।
“নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এমন সহিংসতা ঘটনোর মূল উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়ে সংখ্যালঘুদেরকে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত রাখা।”
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বার্থে দাবি তুলে ধরা হয়:
জাকির তার সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দাবি তুলে ধরেন:
ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বিশেষ কার্যকরী উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা এবং এ বিষয়টি নিয়মিত তদারকির জন্য উচ্চ-পর্যায়ের একটি বিশেষ কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক সেল গঠন করা;
রাউজান ও মীরসরাইসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সংখ্যালঘুদের উপর সংঘটিত সব ধরনের সহিংসতার তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা;
ক্ষতিগ্রস্থদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা;
ক্ষতিগ্রস্থদের মানসিক আঘাত দূরীকরণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
মানবাধিকার কমিশন যেন এই বিষয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নজরদারিতে রাখেন।
