ঢাকা: যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনগণ, তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখালেখি করছেন ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে এই বাংলায় কোন গণভোট হবেনা হতে দেওয়া যাবে না’!
কারণ এই গণভোট যে কী তা জানেন অনেকেই। যদিও গণভোটের আসল বিষয়টা খুলে বলা হচ্ছে না। তাঁরা মূলত উল্টোটা বোঝাচ্ছেন জনগণকে।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি জনসম্মুখে বলছেন, গণভোটে হ্যাঁ বলুন, হ্যাঁ বলা মানে আমরা আওয়ামী লীগ চাই না। আসলেই কি এটার মানে এটা দাঁড়ায়? তাঁরা ভেবেছেন জনগণ তো বোকা, যা বোঝানো হয় তাই বোঝে।
জনগণ বলছে, ‘এই দেশ আমাদের রক্তে কেনা — স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছে গণভোটে নয়, এসেছে বীর বাঙালির আত্মত্যাগে’।
মূলত আজ যারা “গণভোট” নামের নাটক সাজিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব নিয়ে খেলা করছে, প্রহসন তৈরি করেছে-তারা এই দেশের স্বাধীন চেতনার শত্রু।
নির্বাচনের রায়ের আগে “গণভোট” নামের বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, জাতির মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার এক ষড়যন্ত্র।
তবে উপদেষ্টারা একদম জোর দিয়ে বলছেন, জনগণ গণভোটের পক্ষে। তাঁরা জানলেন কীভাবে?
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ‘জনতার কাফেলা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, জনতার কাফেলা জুলাই সনদের পক্ষে, জনতার কাফেলা নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। ’
তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে গণভোটের কার্যক্রম সংক্রান্ত এক জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘জুলাইয়ের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ এবং জুলাই যোদ্ধাদের সাহসী অবদানের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।
দেশের এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হলে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।’
যে পরিবর্তনের নাম করে এসেছে এই ডাকাতরা, তারপরও আরো পরিবর্তন?
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কাউকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ার দেওয়া চলবে না, আয়নাঘর বানানো চলবে না। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যা হবে বৈষম্যমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত। যেখানে সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।’
