ময়মনসিংহ: ভালুকায় পোড়াইছে! একটা মানুষরে পোড়াইছে! এরপরে শিক কাবাব, গ্রিল খাইতে গেলে মনে পড়বে তো?

ছিঃ! ধিক্কার!

এই হচ্ছে শান্তির সরকারের সংস্কার! মানুষ পোড়াচ্ছে আর ইউনূস মানুষের পোড়া গন্ধে উন্মাদ হয়ে বলছে আরো পোড়াও, যত পোড়াবে আমি আরো ক্ষমতার সময় বেশি পাবো!

দীপু চন্দ্র দাস-কে পেটানোর পরে পোড়ানো হয়েছে। এটা নিয়ে একজন কথা বলবে না।

ইসলাম ধর্ম কী আদৌ এই শিক্ষা দেয়? ইউনূস জামাত শিবির এই বাংলাদেশটাকে একদম ছারখার করে ফেলেছে।

লাল স্বাধীনতা, নতুন বাংলাদেশ….!

হাদীর জন্য রাষ্ট্রীয় শোক হয়, হাদীর বউ বাচ্চার দায়িত্ব ইউনুস সরকার নিল কিন্তু দিপু চন্দ্র দাস কি বাংলাদেশের বাইরের কেউ?

এতোগুলা মানুষ চারপাশে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছে, পিশাচের মতো উল্লাস করছে, অথচ ওখানে কী একটা বিবেকও ছিলো না যে দাঁড়িয়ে বলতে পারবে — দীপু চন্দ্র দাস অন্যায় করলে তাকে পুলিশে দিন কিন্তু তাকে মারবেন না!

হায়রে দেশ, হায়রে ধর্ম!
হায়রে ইউনুস সরকার!

এত ঘৃণা হিন্দুদের প্রতি?

বাংলাদেশ জাহেলিয়াত যুগকেও হার মানাতে যাচ্ছে।

⁨সংখ্যালঘু নিধন চলছে অবৈধ সরকারের নীরব প্রশ্রয়ে! কখনো বিমল চন্দ্র দাস, কখনো দীপু চন্দ্র দাস। নৃশংস হত্যা—বাংলাদেশে হিন্দুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা আজও নেই!

অবৈধ ইউনুস সরকারের নীরব প্রশ্রয়ে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর পরিকল্পিত হিংসা ও হত্যাকাণ্ডের চিত্র।

একটার পর এক লাশ, একটার পর এক মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর—সবই প্রমাণ করছে, সংখ্যালঘু নিধনই সরকারের বিশেষ টাস্কে পরিণত হয়েছে।⁩

ভালুকার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন!

লিখেছেন, “ভালুকার একটি কারখানায় কাজ করতো দীপু চন্দ্র দাস। নিতান্তই দরিদ্র শ্রমিক। কারখানার এক মুসলমান সহকর্মী তাকে কোনও তুচ্ছ কারণে শাস্তি দিতে চায়, তাই ভিড়ের মধ্যে তাকে নিয়ে ঘোষণা করে দিল দীপু নবী সম্পর্কে কটূক্তি করেছে। ব্যস।

নবীর উন্মাদ উম্মতেরা হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো দীপুর ওপর। ছিঁড়ে খেতে শুরু করলো দীপুকে। অগত্যা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাজতে নিল।

অর্থাৎ দীপু ছিল পুলিশের হেফাজতে। দীপু পুলিশকে জানিয়েছে কী ঘটেছে, কোনও দোষ তার নেই জানিয়েছে, সে নবী সম্পর্কে কোনও মন্তব্যই করেনি, সবই ওই সহকর্মীর ষড়যন্ত্র, জানিয়েছে। পুলিশ যে দীপুর সহকর্মীর বিরুদ্ধে যাবে, যায়নি। পুলিশের অনেকের মধ্যে জিহাদ-প্রেম তো আছেই।

এই জিহাদ-প্রেমের আতিশয্যে দীপুকে ছুঁড়ে দিয়েছে ওই সব উন্মাদের দিকে? নাকি পুলিশকে সরিয়ে থানা থেকে জিহাদি জঙ্গিরাই ধরে নিয়ে গিয়েছে দীপুকে? দীপুকে নিয়ে রীতিমত উৎসব করেছে। দীপুকে পিটিয়ে, ঝুলিয়ে, পুড়িয়ে জিহাদি উৎসব।

দীপু চন্দ্র দাস সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। তার রোজগারের টাকায় তার পঙ্গু বাবা, মা, স্ত্রী সন্তান চলতো। এখন কী হবে তাদের? কে সাহায্য করবে আত্মীয়দের? কে উন্মাদ খুনীদের বিচার করবে?

দীপুর স্বজনদের তো টাকাকড়িও এমন নেই যে জিহাদিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য ভারতে পালাবে! গরিবের কেউ নেই। তাদের দেশ থেকেও দেশ নেই। ধর্ম থেকেও ধর্ম নেই”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *