ঢাকা: নারী তাদের কাছে গণিমতের মাল কিন্তু নারীদের বুকে টেনে নিতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তখন নারীর ইজ্জত অটুট থাকে?
সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমানকে প্রশ্ন করা হয়, ‘কোনো নারী কি জামায়াতের প্রধান হতে পারেন?’
জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা সম্ভব নয়। এটা সম্ভব নয় কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে নিজস্ব সত্তা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কারণ আপনারা (পুরুষরা) কখনই সন্তান ধারণ করতে পারবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে পারব না। এটি আল্লাহ প্রদত্ত। আর নারী ও পুরুষের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।’
নারীরা অচ্ছুৎ কিন্তু বুকে জড়িয়ে নেয়ার সময় আর অচ্ছুৎ থাকে না। আবার বোরখা পরা নারীরাও কীভাবে একজন পুরুষের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে?
শফিকুর রহমানকে তীব্র নিন্দা ছুড়ে দিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি লিখেছেন ফেসবুকে:
“ছোটবেলায় শুনতাম ঘোমটার নিচে খেমটা নাচে। বড়বেলায় দেখেছি বোরখা নিকাব পরে যা ইচ্ছে তাই করা যায়। যত অপকর্ম, চুরিডাকাতি, খুনখারাবি, কালো কাপড়ের আড়ালে বেশ চলে।
যত দুঃখই আমার থাকুক, আমি কি তীরের মতো ছুটে কোনও লোকের গায়ে, সে লোক যত মহামানবই হোক, ঝাঁপিয়ে পড়বো?
প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু কিছু নিকাবওয়ালী এসব পারে। এরা ডেয়ারিং হয় খুব। যা এদের করতে মানা, তা বেশ করে ফেলে। এই দৃশ্যটি বড় করুণ, করুণ এই জন্য যে নিকাবওয়ালী অপাত্রে নিজেকে সঁপেছে”।
জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই সাদা টুপি সাদা দাড়ির লোকটি জঘন্যরকম নারীবিদ্বেষী। তিনি নাকি মেডিক্যালে পড়েছেন।!
মেডিক্যালে কোএডুকেশান চলে, নিশ্চয়ই তাঁর ক্লাসে তাঁর চেয়েও মেধাবী ছাত্রী ছিল, নিশ্চয়ই তাঁর চেয়েও দক্ষ এবং তুখোড় ডাক্তার হিসেবে তিনি ফিমেইল ডাক্তারদের পেয়েছেন।
নিশ্চয়ই নারী-বিশেষজ্ঞদের পাশে তিনি হীনমন্যতায় ভুগতেন, এবং হিংসে আর ঈর্ষায় অস্থির হতেন। আধুনিক বিজ্ঞানের শিক্ষা লাভ করার পর তিনি জেনেশুনে অনাধুনিক ধর্মের ক্লেদে নিজেকে ডুবিয়েছেন এবং ওখান থেকে নোংরা পুরুষতন্ত্রের ক্লেদজ কুসুম তোলায় ব্যস্ত।
নারী নেতৃত্বের বিরোধিতা কোন পুরুষেরা করে? নিশ্চিতই যারা সংকীর্ণমনের, ক্ষুদ্র মনের, টক্সিক মাস্কুলিনিটি রোগে আক্রান্ত, হীনমন্য পুরুষ! এরা সমাজের জন্য বিষাক্ত। এরা জনসংখ্যার অর্ধেককে নিজেদের যৌনদাসি আর সেবাদাসি বানিয়ে রাখতে চায়।
পুরুষগুলোকে মেগালোম্যানিয়াক দানব ভাবার ব্যবস্থা করে দিয়ে এই লোকটি সমাজে বৈষম্য যত ছিল, তার চেয়েও সহস্রগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশে নারীবিদ্বেষের কারণে নারীর বিরুদ্ধে নির্যাতন, হত্যা, যৌন হেনস্থা, ধর্ষণ হয়েই চলেছে। এই লোকটি সেই নারীবিদ্বেষের নেতা সেজেছেন।
ধিক্কার জানাই এইসব জ্ঞানপাপীদের। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এই পাপীদের বর্জন করুন, আঁস্তাকুড়ে ছুঁড়ে দিন এইসব জঞ্জাল।”
