ঢাকা: ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন।

দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির পর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়, বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী…আমরা তোমাদের ভুলব না। সোনার বাংলা 24 এর সকল পাঠককে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা!

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বাণী:

“আজ ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

দীর্ঘ নয়মাস আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে সর্ব্বোচ্চ ত্যাগের পথ ধরে জাতি বিজয় অর্জন করে। দখলদার পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

এই দিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শহীদ জাতীয় চারনেতাসহ মুজিব নগর সরকারের সকল সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ এবং ৩০ লাখ শহীদ ও অগণিত নির্যাতিত মা-বোনদের।

বিজয়ের গৌরবের পাশাপাশি আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ’৭১ এর পরাজিত শক্তি আবার উদ্যত। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ছড়িয়ে তারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করলো।

পাঁচই আগস্ট প্রথমেই আক্রমণ হল বঙ্গবন্ধুর উপর। বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ধানমন্ডি বত্রিশের বাড়িতে আগুন দেয়া হল; এখান থেকেই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সারাদেশ জুড়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেয়া হলো, লুট হলো স্বাধীনতা জাদুঘর, এমনকি বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ পর্যন্ত রক্ষা পেলো না। গত প্রায় ১৭ মাস ধরে নৈরাজ্য চলছে দেশজুড়ে।

এর প্রধান লক্ষ্যবস্তু মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধারা শারীরিক আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, জাতির পিতার বিরুদ্ধে চলছে কুৎসা, মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে অবনমন করার জন্য হাজির করা হচ্ছে মনগড়া ন্যারেটিভ।

মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মকে বলা হচ্ছে- ‘নিকৃষ্টতম প্রজন্ম’। দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের দেয়া হয়েছে মুক্তি।

১৬ই ডিসেম্বরের বিজয়ের চেয়ে বড় কোন গৌরব, স্বাধীন বাংলাদেশের চেয়ে বড় কোন অর্জন এই জাতির নেই। তাই আজ যতো দুঃসময়ই হোক, দেশবাসীর প্রতি আহ্বান থাকবে আপনারা স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে আঁকড়ে থাকুন।

পরাজিত শক্তিকে আমরা আবার পরাজিত করবো। ১৯৭১ এর ১৬ই ডিসেম্বরের মতো আবারও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিজয় আসবে।

মুক্তিযুদ্ধের অর্জন এই বাংলাদেশ, কিছু প্রতারকের ষড়যন্ত্রের কাছে হারাতে দেব না আমরা। আমাদের-
“হারানো বাংলাকে আবার তো ফিরে পাবো,
অন্ধকারে পূবাকাশে উঠবে আবার দিনমণি।”

দেশবাসী সবাইকে আবারো বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা, সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *