ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও নারীর নিরাপত্তা নেই, প্রকাশ্যে চলছে নারী নির্যাতন।
রাস্তা ঘাটে নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কিন্তু কোন প্রতিকার নেই। অথচ বলা হয়েছিল, নারীদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখন কেউ নারীকে হেনস্থা করলে তার বিচার হয়না, উল্টো পুরষ্কৃত করা হয়।
নারীদের নিয়ে কত কথা ভোটের আগে, অথচ এখন?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের কাছে বুধবার ভোররাতে দুই শিক্ষার্থী দুই নারী হেনস্থা করেছে, ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।
তাদের লাথিও দেয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি।
দেখা যায়, অভিযুক্তদের একজন বাঁশের লাঠি হাতে এক নারীকে লাথি মারার চেষ্টা করছেন।
ভিডিওতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলতে শোনা যায় ওই নারীদের।
একজন নারী বলছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা সেফ না। ৫ আগস্টের পরও আমরা সেফ না। ভার্সিটির ছেলেরা আমাদের ধরে মারে। আমাদের ড্রেসে নাকি লেখা আছে প্রস্টিটিউট।’
অর্থাৎ তাদের বেশ্যা বলে গাল দেয়া হয়। এই বেশ্যা কারা বলে নারীদের? জামাতি শফিকুর রহমান বলেছিলেন বেশ্যা। এখন জামাতিদের মুখে মুখে বেশ্যা।
তিনি আরও বলছিলেন, ‘নাজিরাবাজারে সেহরি খেয়ে আমরা টিএসসিতে এসেছিলাম। তারা আমার রাইডারকে চড় মেরেছে। আমাদের প্রস্টিটিউট বলেছে। তারা কীভাবে নারীর গায়ে হাত তোলে?’
একপর্যায়ে ভিডিওর বাইরে থেকে কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘কোনো প্রমাণ নেই।’ জবাবে ওই নারী বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ আছে।’
অপর এক নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সে আমাকে চড় মারল কেন? ঢাবির একজন শিক্ষার্থী আমাকে মারবে কেন? আমি কি এখানে আসতে পারব না? আমি কি বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসেছি?’
যারা এই গর্হিত কাজ করেছে সেই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ও বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ইসলাম তুষার, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ও জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ সোহান।
অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।
