ঢাকা: লেখক, সাংবাদিক, মুক্তচিন্তকদের জায়গা নেই এই দেশে। তাঁদের বিভিন্ন ভাবে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। বিগত দেড় বছরের অবস্থা তো আরো খারাপ।
লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী অধ্যাপক শাহরিয়ার কবিরের আটকাদেশকে ‘সম্পূর্ণভাবে বেআইনি’ আর আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন’ (ডব্লিউজিএডি)।
সংস্থাটি তাদের ১০৩তম অধিবেশনের সিদ্ধান্তে জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাপক শাহরিয়ার কবিরকে আটক করে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার বনানী এলাকা থেকে আটক করা হয় শাহরিয়ার কবিরকে।
পরে জুলাই আন্দোলনের সময়কার একাধিক মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়। সেই থেকে এই মানবাধিকার কর্মী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা কারাগারে রয়েছেন।
এসব মামলায় অনেকবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে। জামিনের আবেদন জানালেও কিন্তু তা মঞ্জুর হয়নি।
জাতিসংঘের সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শাহরিয়ার কবিরের স্বাধীনতা হরণকে চারটি প্রধান ক্যাটাগরিতে ‘বেআইনি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এগুলো হলো—আইনগত ভিত্তি ছাড়া আটক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন, ন্যায়বিচারের অধিকার হরণ এবং বৈষম্যমূলক মামলা ও হয়রানি।
ডব্লিউজিএডি-এর প্রতিবেদনের ৫১ নম্বর প্যারাগ্রাফে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান সরকার শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার যে অভিযোগ এনেছে, তার একমাত্র ভিত্তি ছিল একটি টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া তাঁর বক্তব্য।
সরকারের দাবি ছিল, তিনি সেখানে সহিংসতায় উস্কানি দিয়েছেন। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, কেবল টেলিভিশনে কথা বলাকে হত্যা বা সহিংসতার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
সরকার এমন কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি যা নিশ্চিত করে যে তাঁর বক্তব্যের ফলেই সহিংসতা ঘটেছে।
ইউএনএইচআরসি মনে করে, শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কীভাবে হত্যা বা হত্যাচেষ্টায় উসকানি হিসেবে কাজ করেছে, সরকার সে প্রমাণও হাজির করতে পারেনি।
