চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের চট্টগ্রামের এক মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ইমাম সাহেবের শোবার কক্ষে রাত্রে তিনটায় এক নারী সহ অশ্লীল কাজে আটক করা হয়েছে।
কতটুক জঘন্য হইলে মানুষ একজন ইমাম সাহেব হওয়া সত্ত্বেও, রমজান মাস মসজিদের ভিতরে আকাম-কুকাম করতে পারে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান লেখক তসলিমা নাসরিন। তবে ইমামের ঘটনার নয়, বরং শিশু ধর্ষণ, জঙ্গী প্রশিক্ষণসহ সমস্ত কুকর্মের।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের এক মসজিদের ইমাম মসজিদের ভেতরে নিজের শোবার ঘরে এক মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ধরা পড়েছেন।
পাড়ার লোকজন দু’জনকেই পিটিয়েছে, অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে। তাদের অভিযোগ—মসজিদের মতো “পবিত্র জায়গায়” এমন অপবিত্র কাজ কী করে করলেন ইমাম সাহেব!
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মসজিদ আবার কবে থেকে পবিত্র জায়গা? যেখানে মানুষকে আল্লাহর নামে ধোঁকা দেওয়া হয়, আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণই আজও মেলেনি, অথচ রূপকথার গল্পকে সত্য বলে প্রচার করে কাল্পনিক স্বর্গের লোভ আর নরকের ভয় দেখিয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়—সেই জায়গাকে কি সত্যিই পবিত্র বলা যায়? যায় না।
মসজিদে নানা অপকর্ম ঘটে—শিশু ধর্ষণ, খুন, মাদক লেনদেন, অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, জঙ্গি প্রশিক্ষণ। অথচ এসব নিয়ে সমাজের এত ক্ষোভ দেখা যায় না, যতটা দেখা যায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে।
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ঘনিষ্ঠতা—তা প্রেম হোক বা যৌন সম্পর্ক—কোনও অপরাধ নয়।
বরং মানুষে মানুষে স্নেহ, প্রেম, ভালবাসা, যৌনতা—এসবই জীবনের স্বাভাবিক ও মানবিক দিক।
তাই ইমাম যদি তার প্রেমিকার সঙ্গে রাত কাটিয়ে থাকেন, সেটি নৈতিকতার বড় সংকট নয়; বরং সমস্যা হলো সেই সমাজের, যারা ব্যক্তিগত সম্পর্কের জন্য মানুষকে পিটিয়ে অপমান করতে দ্বিধা করে না, কিন্তু বড় অন্যায়গুলোর সামনে নীরব থাকে”।
