ঢাকা: ‘বানিয়াচং থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়েছি’ স্বঘোষিত জঙ্গী মাহদী হাসান ধরা পড়ে ভারতে। বিদেশে পালানোর বন্দোবস্ত করছিলো সে।

ওসিকে হুমকি দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান ফিনল্যান্ডের ভিসা প্রক্রিয়া সারতে ভারতে গেলে মঙ্গলবার সেখানকার ভিসা সেন্টারে তার অবস্থানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে ফেরার আগে ফেইসবুক লাইভে এসে মাহদী বলে, “আমি দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বলছি। আমার সঙ্গে যা ঘটেছে, তা দেশে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানাব। এখানে আমাকে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

“আমি আমার দেশের দূতাবাসে কথা বলতে বলেছিলাম। এরপরও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। পরে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে আমাকে দেশে পাঠানো হচ্ছে।”

জঙ্গী মাহদী হাসানের ঘটনার পর বৈষম্য বিরোধীদের নিয়ে বেশ কিছু কথা বলেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

তিনি বলেন, ‘ওরা নাকি ”বৈষম্যবিরোধী”! শুনে এত হাসি পায়, কী বলবো! ওরা কি জানে বৈষম্যবিরোধী মানে কী? এসেছিল লুটপাট করতে। করেছেও।

একটা ভারত হয়ে ইউরোপে পালাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তদন্ত হলে এরা সবাই ধরা পড়বে। সবকটা চোর। হাসিনার সাঙ্গপাঙ্গ হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে, সুতরাং হাসিনাকে তাড়িয়ে দিয়ে নিজেরাই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালানোর মতলব করেছিল।

আর এই সন্ত্রাসীদের পিঠ চাপড়ে তারিফ করে গেছেন চোরগুলোর বাপ ইউনুস। নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে আমার মন উঠে গেছে। কেউ এই পুরস্কার পেলেই আমার মনে হতে থাকে, লোকটি নিশ্চয়ই বদের হাড্ডি!

তারেক জিয়া চিন্তাভাবনা করে কাজ করছেন, অনেকে বলছে। কিন্তু মন্ত্রীসভায় যাঁকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন, তাঁকে কী কারণে দিয়েছেন, অনেকের কাছে তা বোধগম্য নয়। এবং আমিও আকাশ থেকে পড়েছি, মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে।

তাছাড়া নারীর সংখ্যা দেখে আমি হতাশ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। অথচ রাজনীতিতে তাঁদের উপস্থিতি দেখে মনে হয় তাঁরা এই দেশের নাগরিকই নন।

সংসদে নারী কম, মন্ত্রিসভায় নারী কম, রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়নে নারী কম। জামাতে ইসলামী তো কোনও নারীকেই নির্বাচলে প্রার্থী করেনি। এই নারীবিদ্বেষী দলটিকে আমি গোণায় ধরতে চাই না।

অন্যান্য দল যেভাবে হাতে গোণা অল্প সংখ্যক নারীকে প্রার্থী করেছে, দেখে মনে হয়—বাংলাদেশের রাজনীতি এখনও পুরুষদের ক্লাব’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *