ঢাকা: বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন বর্তমান দেশের পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

দখলদার ইউনুস অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই বাংলাদেশ শুধু রাজনৈতিকভাবে না ভৌগোলিকভাবেও অনিরাপদ হয়ে গেছে।

মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। মনে হয় বাঁচার পথ নেই। বেঁচে থাকবো কিনা, এটা এখন জনগণের প্রতিদিনের প্রশ্ন!

এই রাষ্ট্রে আজ সাহায্যের আশায় মানুষ তাকিয়ে থাকে, কিন্তু সাহায্য করার কেউ নেই। কারণ দেশটাই এখন অবৈধ ইউনুসের দখলে। দখলদার ইউনুসের অবৈধ শাসনে রাষ্ট্র হয়ে উঠেছে দায়িত্বহীন দর্শক।

তসলিমা নাসরিন লিখেছেন:

“বাংলাদেশিরা নিজেদের ক্রাইম ভুলে গিয়ে দূর বিদেশের ক্রাইম নিয়ে বগল বাজিয়ে নাচছে। ইহুদি নাসারারা ক্রাইম করেছে, তাইরে নাইরে না।

ইহুদি নাসারারা দুই ক্রিমিনাল জেফ্রি এপস্টাইন আর গিলেন ম্যাক্সোয়েলের বিচার করে কঠোর শাস্তি দিয়েছে অনেক আগেই। গিলেন এখনও জেলে, এপস্টাইন জেলের ভেতর আত্নহত্যা করেছে।

আর এদিকে বাংলাদেশে কী হচ্ছে? কজন শাস্তি পাচ্ছে তাদের ঘৃণ্য অপরাধের কারণে? বেশির ভাগই পাচ্ছে না শাস্তি। যদি কেউ পাচ্ছে, হতদরিদ্র না হলে দুদিন পর মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।

এ দেশে নারী নির্যাতন, নারীবিদ্বেষ, নারী হত্যা, শিশু ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন,বাল্য বিবাহ, যৌন হেনস্থাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয় না। সবই নাকি আল্লাহর বিধান।

২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশে কী ঘটেছে দেখি—

হত্যাঃ বছরে প্রায় ৩,৫০০ – ৪,৫০০টি
রাজনৈতিক সহিংসতা, পারিবারিক কলহ এবং জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ প্রধান কারণ।

ধর্ষণঃ বছরে প্রায় ৪,০০০ – ৫,০০০টি (মামলাকৃত)

প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি ; সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে মামলা করেন না।

শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারঃ বছরে প্রায় ৮০০ – ১,২০০টি
প্রতিবেশী বা পরিচিতজনদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি।

নারী ও শিশু নির্যাতনঃ বছরে প্রায় ১২,০০০ – ১৫,০০০টি
এর মধ্যে যৌতুক, শারীরিক নির্যাতন এবং অপহরণ অন্তর্ভুক্ত।

শিশু বলাৎকারঃ আশঙ্কাজনকভাবে মাদরাসা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিশু বলাৎকারের ঘটনা প্রতিনিয়ত প্রকাশিত হচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের একটি বড় অংশ লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়।

গণপিটুনিতে মৃত্যুঃ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে, যার ফলে গণপিটুনিতে হত্যার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাইবার অপরাধঃ নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হয়রানি এবং পর্নোগ্রাফির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার হারও বর্তমানে শীর্ষ পর্যায়ে।

তথ্যসূত্র ও বাস্তবতাঃ অধিকাংশ মানবাধিকার সংগঠনের মতে, থানায় যতগুলো মামলা হয়, প্রকৃত অপরাধের সংখ্যা তার চেয়ে অন্তত ১০ গুণ বেশি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অনেক সময় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে এসব গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *