ঢাকা: প্রতাপশালীরা কেক কেটে এনজয় করছেন। দেশকে যে এতবড় খাল বানিয়েছেন, সেই ভুক্তভোগী হচ্ছে জনগণ।
মন্ত্রীপাড়ার বাড়ি ছাড়ার আগে ফাওজুল কবির খানের ডাকে এক হলেন ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা; আড্ডা-গল্পে কাটালেন সময়, সারলেন ইফতার-নৈশভোজ।
তবে ছাত্র থেকে উপদেষ্টা বনে যাওয়াদের কেউ সেখানে আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।
দেশকে ধ্বংস করে এরা পিশাচের মতো আনন্দ করছে।
মন্ত্রিপাড়া খালি করে দিতে হবে, নতুন সরকারের বার্তা এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের কাছে।
পোঁটলা গোছানো শুরু করেছেন তারা। তার মধ্যেই একসঙ্গে দেখা গেছে তাদের।
ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালে তার প্রেসসচিব ছিলেন যিনি, সেই শফিকুল আলম শুক্রবার তার ফেসবুক পেজে বেশ কয়েকটি ছবি দিয়েছেন, যেখানে সদ্য বিদায়ী উপদেষ্টাদের একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
শফিকুল আলম সেই পোস্টে লিখেছেন, ফাওজুল কবির খানের আমন্ত্রণে ইফতার ও নৈশভোজের অনুষ্ঠানে এক হয়েছিলেন তারা। তা হয়েছিল ফাওজুল কবির খানের সরকারি বাড়িতে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টারে দায়িত্ব পালনকারী ফাওজুল কবির ঢাকার মিন্টো রোডে সরকারি বাড়িতে উঠেছিলেন। সেখান থেকে শনিবার তারা নিজেদের ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাটে উঠে যাচ্ছেন বলে শফিকুল আলম জানিয়েছেন। যাওয়ার আগে সবাইকে দাওয়াত দিয়ে একত্রিত করেন তিনি।
মন্ত্রিপাড়ার বাড়িটির সবুজ চত্বরে আয়োজিত হয়েছিল অনুষ্ঠান।
খাবারের এলাহি আয়োজন দেখা গেছে। ছবিতে মুহাম্মদ ইউনূসসহ যাদের দেখা গেছে এম সাখাওয়াত হোসেন খান, সালেহ উদ্দিন আহমেদ, সি আর আবরার, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ফরিদা আখতার, তৌহিদ হোসেন, শারমিন মুরশিদ, শেখ বশির উদ্দীন, আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সুপ্রদীপ চাকমা, আদিলুর রহমান খান শুভ্র, বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দারকে।
এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায় নেওয়া গভর্নর আহসান এইচ মনসুরও আমন্ত্রিত ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।
তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেনও ছিলেন।
তার তো এরকম একটা অনুষ্ঠানে যাওয়া উচিত হয়নি। তাঁর যাবার কারণ কী? একজন নিরপেক্ষ তদন্তকারী যখন খোদ অভিযুক্তদের সাথে এক টেবিলে বসছেন, আনন্দ করছেন তখন সাধারণ মানুষের ন্যায় পাবার আশা কতটুকু?
এতে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হবে না? এর উত্তর কী? এই উপদেষ্টাদের অন্যায়ের কী হবে?
তার তো জানার কথা যে ইউনুস সাহেব সহ আরো কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুদকে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। এ কারণেই তার ওই ইফতারে যোগ দেওয়া একটা সিরিয়াস কনফিল্কট অফ ইন্টারেস্ট।

ইউনূস আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত মোমেন এখন তার বস এবং অন্যান্যদের বেলায় কিভাবে ব্যবস্থা নেবেন?
এদের মান সম্মানের বালাই নেই। যেকোনো সভ্য দেশে সরকার বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ইনস্ট্যান্টলি পদত্যাগ করেন।
কিন্তু আমাদের দেশে এই সুবিধাভোগী, স্বার্থান্বেষী লোকগুলো যতদিন পারে সরকারি সুযোগ-সুবিধা, ভাতা নেয়। বসেই থাকে।
উল্লেখযোগ্য যে, ইতিমধ্যে আদিলুর রহমান, আসিফ নজরুল, রেজওয়ানা হাসান, আসিফ মাহমুদ সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা পড়েছে।
