ঢাকা: বাংলাদেশ একটা ভয়ঙ্কর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে। এখানে মানবাধিকার নেই, এখানে কোনো নাগরিক নিরাপদ নয়। নতুন সরকার এসেছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে?
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ফকিরহাটের ইকোপার্কে ৭ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। শিশু কন্যাটির নাম হীরা।
কী করুণ অবস্থা!
রবিবার (১ মার্চ) সকালে এ খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করায়।
সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের মো. নুর হোসেনের কন্যা বলে জানিয়েছে পুুলিশ।
জানা যায়, চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন ইকোপার্ক এলাকায় হিরা (৭) নামক কন্যা শিশুকে গলাকাটা অবস্থায় দেখা যায়। খবর পেয়ে দুপুর ২ টার দিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
শিশুটিকে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করানো হয়। পরে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি যা লিখলেন,
“দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। হীরা। ৭ বছর বয়সী এই শিশুটিকে এক বা একাধিক পুরুষ সীতাকুণ্ডের ইকো পার্কে বেড়াতে নিয়ে এসেছিল।
শিশুটির নিশ্চয়ই পার্ক দেখে বড় আনন্দ হয়েছিল। কিন্তু তাকে স্তম্ভিত করে তাকে ধর্ষণ করলো পুরুষটি বা পুরুষগুলো, রক্তাক্ত করলো তাকে। এখানেই শেষ নয় গল্প।
চলে যাওয়ার আগে ওরা গলা কেটে শিশুটিকে হত্যা করে গেল। কিন্তু ফিনিক্স পাখির মতো শিশুটি শুধু বেঁচে উঠলোই না, টলমল পায়ে হেঁটে হেঁটে পার্ক থেকে বেরও হলো। যৌনাঙ্গে রক্তের স্রোত, কণ্ঠদেশ থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে।
না, সে লাল জামা পরে পার্কে আসেনি, জামা তার জবাই হওয়া গলা থেকে বেরোনো রক্তে লাল হয়েছে। তার শ্বাসনালী কাটা। কারও প্রশ্নের সে কোনও উত্তর দিতে পারেনি।
কন্সট্রাকশানের শ্রমিকেরা শিশুটির কাটা গলা কাপড়ে বেঁধে, বালির ট্রাকে বসিয়ে, নিয়ে গেল সীতাকুণ্ডের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে।
স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে শিশুটিকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো চট্টগ্রাম হাসপাতালে। সেই হাসপাতালে শিশুটি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। মৃত্যু থেকে বেঁচে ওঠা শিশুটি কি এবার সত্যিই মৃত্যুকে বরণ করে নিচ্ছে, নাকি সারভাইভার সে?
যদি বেঁচে ওঠে, সাত বছর বয়সের এই অভিজ্ঞতা তাকে পৃথিবী সম্পর্কে কী তথ্য দেবে? কিভাবে সে বাকি জীবন যাপন করবে? যদি মৃত্যু হয় তার, তবে ইকো পার্কের মৃত্যু থেকে সে কেন উঠে এসেছিল লোকালয়ে?
পৃথিবীর মানুষকে কি দেখাতে এসেছিল নিজের রক্তাক্ত শরীর, বলতে এসেছিল যে মানুষ আসলে মানুষ নয়? কোনও কুকুর, শুয়োর, হায়েনা, কোনও বুনো জন্তুও যদি শিশুটিকে একা পেতো ওই অরণ্যে, তাকে খুবলে খেতো না, মানুষই তাকে খেয়েছে।
মানুষই হতে পারে ভয়ংকর মানুষ-খেকো। কোনও হিংস্র জন্তুও মানুষের মতো এত হিংস্র হতে পারে না”।
তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন।
লিখেছেন, “বাংলাদেশ ধর্ষকদের দেশ। প্রতি বছর প্রায় সাত হাজার ধর্ষণ পুলিশে রিপোর্ট হয়। রিপোর্ট না হওয়ার সংখ্যা নিশ্চয়ই আরও বেশি। এ দেশে পুরুষেরা প্রতিদিন ধর্ষণ করে।
৯ মাসের শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধা– কাউকে ছেড়ে দেয় না। ৯১ ভাগ মুসলমানের দেশে এত ধর্ষণ কেন? উত্তর খুব সহজ।
স্ত্রী-ধর্ষণের অনুমতি মুসলমানদের ধর্মই মুসলমানদের দিয়েছে। দাসি ধর্ষণের অনুমতিও দিয়েছে। মুসলমানদের নবী ৬ বছরের শিশুর প্রতি যৌন আকর্ষণ অনুভব করে সেই শিশুকে বিয়ে করেছিলেন।
বাংলাদেশে নবীর উম্মতেরা শিশুধর্ষণ ঘটিয়ে চলেছে প্রতিদিন। মসজিদে, মাদ্রাসায়, ধানক্ষেতে, পাটক্ষেতে, পার্কে, জঙ্গলে, ঘরে, বাইরে, সবখানে।
যদিও আধুনিক আইন শিশু-ধর্ষণের অনুমতি দেয় না। কিন্তু নবীর কথা, কাজ, আর সম্মতিকে তো সুন্নত বলে ধরা হয়! মুসলমানের দেশে সুন্নত পালনে বাধা দেয়, এমন বুকের পাটা কার”?
