ঢাকা: রাজাকারের আইনজীবী তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাজারটা অভিযোগ আছে।
আইনকে হাতের তালুতে রেখে ঘুরিয়েছেন তাজুল।
বিচারের নামে আইসিটি ট্রাইব্যুনালে ক্যাঙ্গারু ট্রায়াল গত ১৬ মাসের বেশি সময় ধরে চলে আসছে।
গণহত্যার মামলায় নাম ঢুকিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্য, এমনকি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই রাজাকার তাজুল গং।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সমর্থনে এই তাজুল গং বেপরোয়া এবং ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছিলো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সোমবার বিদায়ের দিনে মহম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ করেছেন তাঁরই সহকর্মী ট্রাইব্যুনালের অন্য প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ।
তাজুল এবং প্রসিকিউটর গাজি মোনাওয়ার হুসাইন তামিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সুলতানের দাবি, ‘চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে’ টাকা আয়ের হাতিয়ার করেছিল জামায়াতে ইসলামি অনুগত তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট।
প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের অভিযোগ অনুযায়ী , পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুন এবং আশুলিয়া থানার প্রাক্তন এসআই শেখ আবজালুল হককে রাজসাক্ষী করার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ নিয়েছেন তাজুলেরা।
এছাড়াও আরও কয়েকটি মামলায় ঘুষের বিনিময়ে আসামিদের মুক্তি বা রাজসাক্ষী করার অভিযোগ উঠেছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তো রাজসাক্ষীই বানিয়ে নিলেন ঘুষ লেনদেন করে।
নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার মামলায় প্রাক্তন আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে রাজসাক্ষী করতে প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করা হবে।
তবে এই জামাতি তাজুল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন।
তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত এই বিবৃতি মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিয়ে ওইদিনই সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, এবং যথারীতি তা অস্বীকারও করেন। এ নিয়ে সারাদেশে আলোচনার মধ্যে
মঙ্গলবার তিনি লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। তবে এইসব আর লোকে খায় না।
তাজুল ইসলাম সেখানে বলেন, “গতকাল এবং আজ কিছু সংখ্যক গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে আমার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জনৈক প্রসিকিউটরের বরাতে কিছু বিদ্বেষপ্রসূত ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
“এ ব্যাপারে আমার সুস্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে- উক্ত বক্তব্যসমূহ জঘন্য মিথ্যাচার, তথ্য প্রমাণবিহীন এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার দুরভিসন্ধি থেকে করা হয়েছে।”
ওই অভিযোগকে ‘বিদ্বেষপ্রসূত, সর্বতোভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আমার (বিরুদ্ধে) আনীত এসব অভিযোগের সপক্ষে সামান্য তথ্য প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আমি এবং প্রসিকিউশন টিমের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল স্বচ্ছ এবং আইনানুগ।”
