চট্টগ্রাম: সাত বছরের একটি বাচ্চা শিশু, যার মুখ থেকে এখনো মায়ের দুধের গন্ধ যায়নি, তাকে ধর্ষণ করে শ্বাসনালি কেটে ফেলা হয়েছে। অবশেষে শিশুটি মারা গিয়েছে। কী দেশে তার জন্ম হলো!?
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ৭ বছরের সেই মেয়ে শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
আজ, মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়।
চমেক হাসপাতালে কর্মরত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দীন তালুকদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নারীর জন্মই হয় এই দেশে মরার জন্যে।
শোক প্রকাশ করেছেন তসলিমা নাসরিন। তিনি লিখেছেন:
“মরে গিয়ে তুমি ভালই করেছ হীরা,
বেঁচে থাকলে তুমি একদিন কিশোরী হতে,
বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে তোমাকে অপহরণ করতো পুরুষেরা,
তোমাকে সীতাকুণ্ড পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করতো আবার,
হাসতে হাসতে তোমার উলঙ্গ শরীরটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলতো খাদে,
তুমি মরে যেতে যেতেও মরতে না।
ভয়ে কুঁকড়ে থাকতে তুমি, রক্তে ভেসে ভেসে বাড়ি ফিরতে।
তোমাকে ধিক্কার দিত আত্মীয়রা,
লজ্জায় মুখ ঢেকে পড়ে থাকতে অন্ধকারে।
একটু একটু করে তরুণী হতে,
আর দশ নখ বাড়িয়ে ছুটে ছুটে আসতো পুরুষেরা, সেই পুরুষেরা।
তোমাকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতো প্রতিদিন।
তুমি শৈশব থেকে এদের চেনো, সাত বছর বয়স থেকে এদের চেনো তুমি!
ইকো পার্কের গভীর জঙ্গলে এদের তুমি প্রথম দেখেছিলে,
এরাই তোমার পাড়ায় হেঁটে বেড়ায়, এরাই তোমার প্রতিবেশি,
এরাই স্বজন, এরাই রাস্তা ঘাটে, মাঠে ময়দানে, এরাই শহরে বন্দরে।
এদের একটিই মুখ। হিংস্র কুৎসিত মুখ।
তোমার কণ্ঠদেশে এখনও কাটা দাগ,
পুরুষেরা তোমাকে জবাই করেছিল, সেই দাগ।
শ্বাসনালী নেই, তুমি কথা বলতে পারো না,
তোমার অভিযোগ কোনও আদালতই নেয়নি।
বিশাল ব্রহ্মাণ্ডে একা তুমি, একটি বিন্দুর মতো একা।
নিরীহ, নিঃসঙ্গ, নিরপরাধ।
তোমাকে যে লাল শাড়ি পরিয়ে একদিন বিয়ে করবে, সেও তোমাকে প্রতিরাতে ধর্ষণ করবে,
অন্তর রক্তাক্ত হবে তোমার প্রতিরাতে।
দেখবে তার মুখও সেই মুখ, ইকো পার্কের ধর্ষকদের মুখ,
সেই একই হিংস্র কুৎসিত মুখ।
তুমি চিৎকার করবে, সেই চিৎকার শুধু তুমিই শুনবে।
তুমি টের পাবে শৈশব থেকে তুমি ইকো পার্কেই পড়ে আছো,
ইকো পার্ক থেকে আসলে তুমি বেরোতে পারোনি,
ইকো পার্কেই ধর্ষণের উৎসব চলছে,
গোটা জীবনটাই তোমার আস্ত একটা ইকো পার্ক।
তোমাকে হয়তো যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে
একদিন আত্মহত্যাই করতে হতো,
গলার কাটা দাগ বরাবর ওড়না বা শাড়ির আঁচলের ফাঁস নিয়ে।
একদিন তুমিই হয়তো এই নষ্ট পৃথিবীর থাবা থেকে,
কামড় থেকে বাঁচতে চাইতে।
জান্নাতুল নিশা হীরা, মরে গিয়ে তুমি ভালই করেছ আজ।
বেঁচে থেকে তোমাকে শত-শতবার ধর্ষণ আর শত-শতবার মৃত্যু দেখতে হলো না”।
