ঢাকা: বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে কার্যত বন্দী করে রেখেছিলেন জঙ্গী ইউনূস। মহামান্য রাষ্ট্রপতির যাতে মন ভেঙে যায়, সে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। একথা সাহাবুদ্দিন চুপ্পু সাক্ষাৎকারেই বলেছেন।
তিনি বলেন, “আমাকে যেন এই প্রাসাদে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অংশগ্রহণ করেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই রেওয়াজ চলে আসছে।
কিন্তু ড. ইউনূসের সরকার সেই রেওয়াজে প্রতিবন্ধকতা দিয়েছে। আমাকে দুইটা ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যেতে দেয়নি।
নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে আমাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আপনি ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে যাবেন না।
এ ছাড়া বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বঙ্গভবনেই হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী আমরা এই দিবসগুলো বঙ্গভবনে আয়োজন করি; জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়।
আমরা ওই দিবসগুলোতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু তিনি আসেননি। এর আগে সরকারপ্রধানরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যদিও সাংবিধানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি সৌজন্যবোধের বিষয়। ’’
তিনি বলেন, ‘‘গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা ১৪ বার বিদেশে গেছেন, অথচ আমি চিকিৎসার জন্য যেতে পারিনি। মূলত আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। আমি ভেঙে পড়ে যাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি; এতে তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারবে।
আর এটা করতে পারলেই নির্বাচন বিলম্ব করানো বা নিজেদের ক্ষমতা বেশিদিন ধরে রাখা যেত। নিজেদের মনমতো রাষ্ট্রপতি হলে যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়—এই ভাবনা থেকেই আমার ওপর মানসিক পীড়ন চালিয়েছেন তাঁরা।’’
তসলিমা নাসরিন ইউনূসকে আবারো ধুয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ইউনুসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করার, একাত্তরের শত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে আঁতাত করার, সেভেন সিস্টার দখল করার হুমকি দেওয়ার, প্রতিবেশি বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত করার, ভারতের বিরুদ্ধে জনতাকে লেলিয়ে দেওয়ার, দেশি জঙ্গিদের জেলখানা থেকে মুক্ত করার, নিজের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ করার, মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার, অবাধে হিন্দুর ওপর নির্যাতন করতে দেওয়ার, মিথ্যে মামলা দিয়ে শিল্পী সাহিত্যিকদের জেলে ভরার, দেশের ঐতিহ্য সংস্কৃতি ধ্বংস করার জন্য জিহাদিদের উৎসাহিত করার, লীগপন্থী নাগরিকদের হত্যা করার জন্য জঙ্গি লেলিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে না কেন?
তার একশো রকম অপরাধের বিরুদ্ধে একশো রকম মামলা করা যায়। কেউ করছে না কেন মামলা?
যারা উপদেষ্টা পদে বসে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই বা কেউ এখনও মামলা করছে না কেন? অপরাধীগুলোর তো জেলে থাকা উচিত’।
