ঢাকা: এই গুঞ্জন অনেকদিন থেকেই শোনা যাচ্ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন ব্যাপারটা পরিষ্কার করেছেন। ইউনূস সরকারের সমস্ত গোমর ফাঁস করে দিচ্ছেন তাঁরা। কোথায় যাবেন ইউনূস?

সংবাদমাধ্যমে তিনি বলেছেন, সরকার চলতো একটা বিশেষ গোষ্ঠীর নির্দেশনায়। যদিও তিনি স্পষ্ট করে তাদের নাম বলেননি, তবে মোটামুটি সবার কাছে পরিষ্কার এই কিচেন কেবিনেটের সদস্য ছিল– আসিফ নজরুল, রেজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান শুভ্র, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং আরও কয়েকজন।

স্বৈরাচারি স্টাইলে সরকার চালাতেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছাড়ার পর বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা দ্বিমত করেছি, সেগুলো ছোটখাট বিষয় ছিল। যেমন সূচি বাদ দেওয়া ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বড় সিদ্ধান্তগুলো কেবিনেটে হতো না। এগুলো কেবিনেটের বাইরে আলোচনা হতো।’

তিনি বলেন, সব সরকারেরই একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ থাকে- এমন মন্তব্য তিনি শুনেছেন। তবে সেখানে কারা ছিলেন, তা তিনি জানেন না।

‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, আমি সেখানে ছিলাম না,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘হয়তো ওই মনোভাবের লোক আমি ছিলাম না। তারা ধরে নিয়েছে, আমি তাদের সঙ্গে একমত হতে পারব না। যারা এসব করেছে, তারা পরিচিত। আমি শুধু নাম শুনেছি। তারা আমার সহকর্মী ছিলেন।’

দেশটা ছিল এক অগ্নীগর্ভের মধ্যে। উপদেষ্টাদের কেউ আমাকে ডাকেওনি। আমার সঙ্গে কনসাল্ট করার প্রয়োজনও মনে করেনি। সেখানে কী হতো আমি জানি না। হয়তো ওই মনোভাবের লোক আমি ছিলাম না।

আমি তাদের সাথে একমত হতে পারতাম না তারা ধরে নিয়েছে। যারা এই কাজ করেছে তারা চিহ্নিত। আমি শুধু নাম শুনেছি। তারা আমার কলিগ ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হয়েছিলেন, কেনই বা তাকে চলে যেতে হলো তারও একটা বর্ণনা দিয়েছেন। বলেছেন, পুলিশকে পুনর্গঠিত করাই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। তার দাবি, তিনি সফল হয়েছেন। পরিবেশ এমনই ছিল যে, পুলিশকে মাঠে আনার মতো অবস্থা ছিল না। তাদের কিছু দাবি দাওয়া ছিল। আমি তাদের সঙ্গে কথা বললাম। তার কথায়, কিছু থানা লুট হয়ে গেছে। অনেকগুলো থানায় আগুন লাগানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক। পুলিশের অবস্থা এমনই তারা বের হতে চাচ্ছিল না। পরে অনেক কথাবার্তা বলে পুলিশকে আনা হলো। ট্রাফিক পুলিশ দাঁড়াতে চায়নি।

তাদেরকে রাস্তায় থাকার জন্য উৎসাহ দিলাম। পুলিশ বের হলো। কাজও শুরু করলো। পুলিশের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বললাম। প্রায় ৪ হাজার রাইফেল লুট হয়ে গেছে। আমি থাকতে থাকতে কিছু রিকোভার হলো।

যতটুকু জেনেছি হাজার খানেকের বেশি রাইফেল পিস্তল লুটেড অবস্থায় আছে। যেটা আমি মনে করি বর্তমান সরকারের জন্য মারাত্মক হতে পারে। এরমধ্যেই আমাকে সরিয়ে দেয়া হলো।

কেন সরানো হলো এই প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত বলেছেন, আমি এমন কিছু কথা বলেছিলাম যা ওই সময়ের জন্য মনে হয়েছিল সঠিক নয়। কিন্তু এখনতো দেখছি তার চাইতে বেশি হচ্ছে। আমি কথাটা বলেছিলাম, তা খণ্ডিতভাবে এসেছিল গণমাধ্যমে। আমি চলে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস সাহেব আমাকে আসতে দেননি। মাত্র ৭-৮ দিনের মধ্যে চলে গেলে খারাপ বার্তা যাবে এমনটাই তিনি বলেছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *