ঢাকা: বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বের সব দেশেই রেড ফ্লেগ দেখানো হচ্ছে বাংলাদেশকে। আমেরিকা ভিসা দিচ্ছে না, ইউরোপ দিচ্ছে না, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শ্রমিক নিচ্ছে না, প্রতিবেশী ভারত পর্যন্ত পর্যটন ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী কে?

জনগণ যে এত বিপদের মধ্যে পড়ে আছেন, বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার এই দায় কী স্বীকার করবেন ইউনূস?

আমেরিকায় ভিসা পেতে এ বার আরও বেশি অর্থের জোগান রাখতে হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি পেতে বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ড হিসাবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা রাখতে হতে পারে।

২১ জানুয়ারি থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে বলে জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

বিষয়টা এমন যে, প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বন্ডের অঙ্ক এক নয়, পরিস্থিতি অনুযায়ী টাকার পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

উল্লেখযোগ্য যে, বর্তমানে মোট ৩৮টি দেশ এই তালিকার আওতায় এসেছে।

তবে এতে অন্তর্বর্তী সরকারের দোষ দেখছেন না পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘যদি সবাই গত এক বছরে যেত, তাহলে আমি বলতাম যে আমরা দায়ী। সমস্যাটা হচ্ছে, যদি এক বছরে হতো, আমি বলতাম এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে। এই পদ্ধতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজেই দায়দায়িত্ব যদি আপনি ধরেন পলিসিগতভাবে কারও ওপর থাকে, সেটা হলো পূর্ববর্তী সব সরকারের আছে। সেটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারি নাই, পরিবর্তন করা সম্ভব না। কারণ, মানুষের এই নড়াচড়া করার সাধ্য এই সরকারের নাই, কোনো সরকারেই ছিল না।’

অর্থাৎ তাঁদের কাছে এগুলো পান্তা ভাত।

বিদেশি টাকা, ইসলামি জঙ্গিদের সশস্ত্র সমর্থন আর সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতা দখল করে ইউনূস এখন দেশটাকে ছড়ি দিয়ে ঘোরাচ্ছেন। জনগণ যথা ইচ্ছে তথা যাক।

রাস্তায় মানুষ মেরে, সরকারি ভবনে আগুন দিয়ে, পুলিশ হত্যা করে একটা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে।

বিশ্ব কিন্তু বোকা নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঠিকই বুঝে গেছে বাংলাদেশে কী ঘটেছে। যে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে ক্ষমতা দখল করা হয়, যে দেশে সংবিধান পদদলিত হয়, যে দেশে জনগণের রায় ছাড়া একজন লোক ক্ষমতায় বসে, সেই দেশের মানুষদের কেন তারা বিশ্বাস করবে?

আসলে আমেরিকা যে এখন বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলার জামানত চাইছে ভিসার জন্য এটা কি শুধুই একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত? না, এটা একটা রাজনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায়।

ওদিকে, ভারত বুঝে গেছে বাংলাদেশে যা ঘটেছে তা একটা রাষ্ট্রীয় অভ্যুত্থান, এবং এই অস্থিতিশীল শাসনের অধীনে বাংলাদেশিরা তাদের দেশে গেলে কী ঝামেলা হতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *