পাংশা: পাংশায় মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থানে আগুন দিয়েছে নব্য রাজাকাররা।
রাজাকারদের আসল চেহারা মানুষের সামনে বের হয়ে আসছে। তারা এখন ৭১ এর চেয়েও ভয়ংকর রূপে ফিরে এসেছে।
এটি কোনো দেশের সংস্কৃতির অংশ নয়। এগুলোকে প্রশ্রয় দিয়ে, পেলে পুষে রেখেছেন ইউনূস।
এটা বিশ্বের কোনো স্থানে গ্রহণযোগ্য আচরণ নয়। পাংশায় মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে অগ্নিসংযোগ—এটা শুধু ভাঙচুর নয়, ইতিহাসকে অপমান।
যারা জাতির বীরদের স্মৃতিস্তম্ভে হাত দেয়, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রু।
রাজবাড়ীর পাংশার বাহাদুরপুরের তারাপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে আগুন দিয়েছে রাজাকার, ৭১ বিরোধীরা।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) কবরস্থানে এই ঘটনাটি ঘটে। এতে কবরস্থানের বাঁশের বেড়া পুড়ে গেছে।
এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে জনগণ। স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
কোথাও মুক্তিযোদ্ধা দম্পতিকে কেটে ফেলে দেয়া হচ্ছে, কোথাও কবরস্থানে গিয়েই হামলা চালানো হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধার দেহ রক্ষা পায় না কবরে গিয়েও! এই কী বাংলাদেশ?
তারাপুর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও কবরস্থানের কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম জানান, ফজরের আজান দিতে যাওয়ার সময় কবরস্থানে আগুন দেখতে পাই। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে স্থানীয় লোকজন ও হেফজখানার শিক্ষার্থীরা এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এখানে বিদ্যুতের কোনো সংযোগ নেই। রাস্তা থেকে একটু ভেতরে কবরস্থানটি। ফলে নাশকতার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এখানে আগুন দেওয়া হয়েছে।
কবরস্থানের সেক্রেটারি শিক্ষক নুরুল আলম বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হবে এবং প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
বাহাদুরপুর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সমশের আলী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। এখন আমাদের জন্য সংরক্ষিত কবরস্থানে এরকম আগুনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। ৭১ সালের পরাজিত শক্তিরাই এমন কাজ করেছে বলে ধারণা করছি।
তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনসহ দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।
