ফরিদপুর: ফরিদপুর তথা বাংলাদেশের জন্য উৎসব নামক শব্দটি এখন একটি বোঝা।সোনার বাংলার সংস্কৃতি , আনন্দ, গান আজ বিলীন।

এক হতভাগা প্রশ্ন করেছেন, “আর কখনো সেই পুরোনো সোনার বাংলাদেশ কি দেখে যেতে পারবো? যেখানে ছিল গ্রাম বাংলার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সরল মানসিকতা, ছিল পল্লীগীতি ভাটিয়ালি, ছিল নবান্ন উৎসব,ছিল বৈশাখী মেলা,ছিল স্কুলের শিক্ষকদের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা। এই সুদিন কি আর আসবে”?

সুদিন আসবে কিনা জানা নেই, তবে দুর্দিন যে আরো আসছে তা বোঝা যায়। সরকারের ভেতর আরেক সরকার চালাচ্ছে জামাত।

তাই জামাতি নিষেধাজ্ঞা চলছে দেশজুড়ে। সংস্কৃতির ওপর হামলা চলছে তাই। হারমোনিয়াম, সেতার, রবি ঠাকুর জামাত শিবিরের না পছন্দ। তাই সব বন্ধ।

শেষ মুহূর্তের প্রশাসনিক নির্দেশে ফরিদপুরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষের আনন্দ মাটি। তবে অনেকেই জানতেন না, তাই এসেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং অবৈধ জামাতি ইউনুস সরকারের সেই সাংস্কৃতিক দমননীতিরই বহিঃপ্রকাশ, যার লক্ষ্য সারাদেশে তথাকথিত “জামাতি আইন” কায়েম করে আবহমান বাংলার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করা।

তাই ঘুড়ি উৎসব বন্ধ করা হয়েছে।

রঙিন ঘুড়িতে আকাশ ভরানোর বদলে আজ ফরিদপুরবাসীর ভাগ্যে জুটেছে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা আর দমন-পীড়নের অন্ধকার।

এর আগে, শুক্রবার রাতে জেলা স্কুলের অনুষ্ঠানে কনসার্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে এই উৎসব বন্ধ করা হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—একটি সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক উৎসব কি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি? নাকি সংস্কৃতি বিরোধী শক্তির চোখে ঘুড়ি উৎসবই অপরাধ?

ফরিদপুরের ঘুড়ি উৎসব কোনো বিচ্ছিন্ন আয়োজন নয়—এটি বাংলার সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এই উৎসব বন্ধ মানে শুধু একটি অনুষ্ঠান বাতিল নয়; এটি সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত, জনগণের আনন্দ ও স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।

৫ আগস্টের পর থেকে এই কালো হাতের থাবা পড়ছে সব জায়গায়। হয়তো আরো পড়বে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *