চট্টগ্রাম: একজন শিক্ষককে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাচ্ছে ছাত্ররা! ভাবতে পারা যায় আমরা কোন দেশে বসবাস করছি?
বিসিএস ক্যাডার, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হয়েও শিক্ষকতাকেই বেছে নিয়েছিলেন, আর আজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মব সন্ত্রাসে রক্তাক্ত হলেন হাসান রোমান।
শুধু শিক্ষকতা করার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন—আজ সেই মানুষটিই ছাত্রদের হাতে লাঞ্ছিত! এটা প্রতিবাদ নয়, এটা সাহসও নয়—এটা অশিক্ষা, অহংকার আর নৈতিক দেউলিয়াপনা।
শিক্ষকের গায়ে হাত তোলা মানে একজন মানুষ নয়—পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা, ভবিষ্যৎকে অপমান করা। এই দেশটা কোথায় পৌঁছেছে ভাবতে পারছেন?
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভর ওপর হামলা হয়েছে।
শুভর ওপর নির্মম ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় পুরো শিক্ষাঙ্গন শোকাহত এবং ক্ষোভে ফুঁসছে।
যেভাবে তাঁকে ধরা হয়েছে, ঘাড়ে ধরে রিক্সায় ওঠানো হয়েছে সব ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আজ সকালে ক্যাম্পাস এলাকা থেকে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
যেভাবে তাঁকে মারধর করা হয়েছে, জানা গেছে, বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্রের দাবি, জামায়াত–শিবির সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা তাঁকে পরিকল্পিতভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে এই বর্বর হামলা চালিয়েছে।
হাসান রোমান শুভ আদর্শবাদী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তিনি আগে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বিসিএস ক্যাডার হিসেবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।
সেই ক্যারিয়ার ছেড়ে তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছিলেন নিঃস্বার্থভাবে।
তিনি সবসময় ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন।
তিনি চোর, ডাকাত, খুনী নন। অপরাধ একটাই—তিনি ছিলেন ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি।
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকা আজ “সবচেয়ে বড় অপরাধে” পরিণত হয়েছে।
