ঢাকা: নারীদের কর্মজীবনকে ‘পতিতাবৃত্তি’ আখ্যা! কর্ম করে সংসার চালানো, পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেয়া নারী পতিতা? জামায়াত তার চরিত্র বারবার বুঝিয়ে দেয় এইভাবেই।
জামায়াত আমিরের এক্স পোস্ট ঘিরে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু। ঝাড়ু মিছিল পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু লজ্জা নেই শফিকের।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নেতৃত্ব ও ঘরের বাইরে কাজ করাকে ‘পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা’ করে দেওয়া এক বিতর্কিত পোস্ট দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তার অফিসিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই পোস্টে বলা হয়, “নারীর প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান নীতিগত। আমরা মনে করি না নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত। আল্লাহ এটার অনুমতি দেননি।”
পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, আধুনিকতার নামে নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করতে বাধ্য করায় তারা শোষণ, নিরাপত্তাহীনতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে—যা “পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ” বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, সোশ্যাল মিডিয়ার অশ্লীলতা এবং নারীদের পণ্যে পরিণত করাকে ‘নৈতিক পতনের লক্ষণ’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।
পোস্টটি প্রকাশের পরপরই এর স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে কিছুক্ষণের মধ্যেই পোস্টটি অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। পরে জামায়াত আমিরের মিডিয়া বা অ্যাডমিন প্যানেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল এবং বিতর্কিত পোস্টটি তার বা দলের পক্ষ থেকে দেওয়া নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতেই হ্যাকাররা এমন পোস্ট করেছে বলে দাবি করা হয়।
তবে এই কথা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। যদি ধরেই নিলাম হ্যাক হয়, তারপরেও জামায়াতের চরিত্র এটাই।
এই ঘটনার পরেই লেখক তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন:
“বাংলাদেশে যত রাজনৈতিক দল আছে, সবগুলোই আসলে জামায়াতে ইসলামী। তাদের মুখোশের নাম আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, বাসদ,সিপিবি, জাতীয় পার্টি ইত্যাদি। তাদের আসল নামঃ
জামায়াতে ইসলামী ১
জামায়াতে ইসলামী ২
জামায়াতে ইসলামী ৩
জামায়াতে ইসলামী ৪
জামায়াতে ইসলামী ৫
জামায়াতে ইসলামী ৬
জামায়াতে ইসলামী ৭
এদের আদর্শে মূলত কোনও পার্থক্য নেই। এরা সকলেই পুরুষতন্ত্র চায়, এরা নারীর সমানাধিকার চায় না, এরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে না”!
আরো লেখেন, “বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, এরা কেউ ধর্মের ভিত্তিতে থাকা পারিবারিক আইন বদলাতে চায় না, এরা সমানাধিকারের ভিত্তিতে পারিবারিক আইন হোক চায় না বা সমানাধিকারের ভিত্তিতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হোক চায় না, এরা ধার্মিক সেজে ভোট পেতে চায়, মসজিদ মাদ্রাসা গড়ে জনপ্রিয় হতে চায়, ইসলাম ইসলাম জপ করে ভাল মানুষ সাজতে চায়, হিজাব পরে বা মাথায় কাপড় দিয়ে ধার্মিক সাজতে চায়, এরা মিথ্যে বলে”।
