ঢাকা: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়া জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংগঠনটি পরিষ্কার বলেছে, মতপ্রকাশের কারণে ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা উদ্বেগজনক এবং এটি স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর চাপ তৈরির ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের লেখা, বক্তব্য বা পেশাগত কাজকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন মূলত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য প্রণীত। তবে এসব আইন যদি শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ বা সাংবাদিকতার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা আইনের অপব্যবহারের শামিল এবং সমাজে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি জানান সেটির আঞ্চলিক গবেষক রিহাব মাহমুর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচার চালানোর অভিযোগে আনিস আলমগীর ও আরও চারজনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করার পর ১৫ ডিসেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাঁকে আটক করা হয়।

অ্যামনেস্টির আঞ্চলিক গবেষক বলেন, ‘আনিস আলমগীরের গ্রেফতার বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন রয়েছে—এমন ধারণার ভিত্তিতে ব্যক্তিদের নিশানা করার যে উদ্বেগজনক প্রবণতা চলছে, তারই ধারাবাহিকতা।

নিজস্ব অভিমত বা মতামত প্রকাশকারীদের কণ্ঠরোধ করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার না করে বরং অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বাকস্বাধীনতা এবং সংগঠন করার স্বাধীনতার পথ সুগম করা, বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে।’

রিহাব মাহমুর বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই জাতিসংঘের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার-সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাকে সম্মান জানাতে হবে এবং অবিলম্বে আনিস আলমগীরকে মুক্তি দিতে হবে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *