ঢাকা: বঙ্গদেশের ভারত বিরোধিতা পাকিস্তান ভালোবাসার সমানুপাতিক। পাকিস্তান বাংলাদেশ এখন ভাই ভাই। শিবির তো বলেই দিয়েছে, দুই দেশ একটা মিউচ্যুয়ালে চলে এসেছে।
একজন নেতা মারা গেছে। আর সাথে সাথে ভারত বিরোধিতা আরো চরমে উঠেছে।
সিঙ্গাপুরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই ঢাকাসহ একাধিক শহরে ক্ষোভ বিস্ফোরিত। রাজপথে নামা বিক্ষোভকারীদের দাবি ক্রমে ভারত-বিরোধী ভাষ্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে।
ভারত বিরোধী উত্তেজনাকে পরিকল্পিত ভাবে উসকে দিচ্ছে কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী। ইউনূসের কথাবার্তা পুরোই উস্কানিমূলক।
তসলিমা নাসরিন ভারতবিরোধী কট্টরপন্থী হাদিকে নিয়ে লিখেছেন:
“হাদি মরার আগে হাদির নামও শুনিনি কোনওদিন। চেহারাও দেখিনি। মরার পর চারদিকের হট্টগোল শুনে তার সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে কিছু চিৎকারের ভিডিও দেখলাম, কারও হাত থেকে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার ভিডিও দেখলাম, গালি গালাজ শুনলাম, ভারতের বিরুদ্ধে যুক্তিবুদ্ধিহীন চেঁচানো শুনলাম।
রাজনীতির র-ও জানে বলে মনে হয়নি। সে মাদ্রাসা পড়া লোক। সোজা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকেছে। আমাদের কালে আমরা কল্পনাও করতে পারতাম না মাদ্রাসা থেকে পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিসীমানায় কেউ ঢুকতে পারবে”।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের ভারত বিরোধিতার সুর আবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
শনিবার ওসমান হাদির শেষ যাত্রায় বলেন, এই কট্টরপন্থী নেতা জনগণের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
হাদির শেষযাত্রায় আসা মানুষের উদ্দেশে ইউনুস বলেন, বাংলাদেশজুড়ে বহু মানুষ এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা হাদির বিষয়ে শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রিয় ওসমান হাদি, আমরা এখানে বিদায় জানাতে আসিনি। তুমি আমাদের হৃদয়ে বাস করো। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, তুমি এই দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে।’
হাদির রাজনীতির ছত্রে ছত্রে ছিল ভারতের প্রতি ঘৃণা এবং বিদ্বেষের বীজ।
ইউনুস বলেন, ‘তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে নম্রতার সঙ্গে মানুষের সঙ্গে মিশতে করতে হয়, কষ্ট না দিয়ে মতামত প্রকাশ করতে হয় এবং সদয়ভাবে প্রচার চালাতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, “আমরা তাঁর শিক্ষা গ্রহণ করব এবং এর বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। আমরা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে এমন একটি স্তরে নিয়ে যেতে চাই যেখানে হাদির উদাহরণ জীবন্ত থাকবে।”
