ঢাকা: একটা সুস্থ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়ে দিলেন সাকিব আল হাসান। ছুঁড়ে দিলেন সাথে কতগুলো প্রশ্ন তাঁদের প্রতি যারা বাচ্চাগুলোকে অনাথ করেছে!
কত শিশু আজ মা বাবা হারা হয়েছে। অথচ এই শিশুগুলো না বোঝে রাজনীতি, না বোঝে অন্যায়।
নিষ্পাপ শিশুগুলোকে অপ রাজনীতির বলি হতে হয়েছে। যারা কিছুই বোঝে না। অবলা শিশুর জন্য সারা দেশ কাঁদে।
মাত্র ২১ বছর বয়সে বিধবা হয়েছেন মেঘনা রানী রবিদাস। দেড় বছরের মেয়েকে নিয়ে অথই সাগরে পড়েছেন।
বাবার আদর-ভালোবাসা কী জিনিস বোঝার আগেই বাবা চলে গেছে! শিশুটিকে নিয়ে কোথায় দাঁড়াবেন, এমন দুশ্চিন্তা এখন ভর করেছে পরিবারটিতে।
কোলের শিশুটির কান্না থামানোর চেষ্টা করে মেঘনা বলেন, ‘আমাদের কী হবে এখন। মাত্র ৩ বছরের সংসার আমার, শেষ হয়ে গেল। আমার স্বামীকে (দীপু চন্দ্র দাস) নিয়ে সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখছিলাম।’
আল্লাহু আকবার, আর নারায়ে তাকবির বলতে বলতে যে মানুষগুলোকে হত্যা করা হচ্ছে, কোনো সভ্য দেশে এই কর্ম হয়? বাংলাদেশ কোন জঘন্য পঙ্কিলতায় যে ঢুকে পড়েছে…!
এক একটি শিশুর অনাথ হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। ২৫ শে ডিসেম্বর বড়দিনের শুভেচ্ছা জানালেন, এবং সেই শিশুগুলো যারা আদর থেকে বঞ্চিত তাদের যেন ভুলে না যায় দেশবাসী সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন।
তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:
রাজশাহীর পঙ্গু মাসুদের ছোট্ট শিশু,
টাঙ্গাইলের মোমিনের ছোট্ট শিশু,
সদ্য নৃশংস হত্যার শিকার দীপু দাশের ছোট্ট শিশু, গোপালগঞ্জের দীপ্ত সাহার ছোট্ট শিশু, ওসমান হাদির ছোট্ট শিশু—আরও কত শত শিশু আজ এতিম হয়ে গেছে!
এই শিশুদের জীবন যেন আগামীর জন্য দুর্বিষহ না হয়—
সে দায়িত্ব বাংলাদেশের, তথা আমাদের।
লক্ষ্মীপুরের শিশু আয়শা,
মাগুরার ধর্ষিত শিশু আছিয়াকে আমরা হারিয়েছি!
ওরা কেউ রাজনীতি বোঝে না,
ধর্ম বোঝে না—
তবুও ওদের জীবন দিতে হয়েছে!
শিশুদের জন্য,
শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য,
মানুষের মতো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার জন্য—
সর্বোপরি
শিশুর বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়বার জন্য—আমরা কি ঠিক দায়িত্বশীল আচরণ করছি?
ভালো থেকো, সুস্থ থেকো—
আগামী গড়বার কারিগর,
আমাদের আগামী প্রজন্ম।
সবাইকে বড় দিনের শুভেচ্ছা”!
