ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে শহিদুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই নিয়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে চারদিকে‌। এই বিষয়ে অনেকেই তারেক রহমানের কথা বলছেন।

তসলিমা নাসরিনও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:

“তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে শনিবার রাজধানীর শাহবাগ থেকে গাবতলী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ এ কে এম শহিদুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তারেক রহমানের উচিত ছিল শহিদুল ইসলামের বাক স্বাধীনতাকে সম্মান করা এবং তাকে আটকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা”।

তসলিমা লেখেন, “গণতন্ত্রের প্রথম শর্তই তো বাক স্বাধীনতা”।

অবশেষে দেখা গেলো, শহিদুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিএনপি।

প্রসঙ্গত, শহিদুল ইসলাম রাজধানীর গাবতলী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সকালে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতের সময় তারেক রহমানকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী বলে চিৎকার করছিলেন শহিদুল।

সে সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীরা তাঁকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশে হস্তান্তর করেন।

তবে সমালোচনার চাপেই হোক আর যাই হোক- তাঁর মুক্তি চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিএনপি।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সই করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অবিলম্বে শহিদুল ইসলামকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি মনে করে একটি গণতান্ত্রিক দেশে যে কোনো ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।

আর এজন্য বিএনপি গণতন্ত্র তথা মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে আসছে। বিএনপি এটাও বিশ্বাস করে যে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটা মৌলিক মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার, যা ব্যক্তিকে নির্ভয়ে নিজের চিন্তা, মতামত ও বিশ্বাস প্রকাশ করার স্বাধীনতা দেয়।

সুতরাং বিএনপি মনে করে, নিজের মত প্রকাশের কারণে শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার ও কারাগারে প্রেরণ সঠিক হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *